চেন্নাই, ২০ আগস্ট (আইএএনএস): কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বৃহস্পতিবার তামিলনাড়ুর মামল্লপুরমের কাছে কোভালমের একটি বেসরকারি বিলাসবহুল হোটেলে ৩১তম দক্ষিণাঞ্চলীয় পরিষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও শীর্ষ আধিকারিকরা আন্তঃরাজ্য বিরোধ, নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সি. জোসেফ বিজয় ব্যক্তিগতভাবে অমিত শাহকে স্বাগত জানান। বৈঠক শুরুর আগে দুই নেতার মধ্যে সংক্ষিপ্ত কথাবার্তাও হয়। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের পাশেই বসেছিলেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার।
সম্মেলনে তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, কেরল এবং তেলঙ্গানার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু, কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ভি. ডি. সতীশন এবং তেলঙ্গানার উপমুখ্যমন্ত্রী মল্লু ভাট্টি বিক্রমার্কা উপস্থিত ছিলেন।
পুদুচেরির মুখ্যমন্ত্রী এন. রঙ্গস্বামী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর পরিবর্তে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির প্রতিনিধিত্ব করেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর কে. কৈলাশনাথন। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের লেফটেন্যান্ট গভর্নর, লক্ষদ্বীপের আধিকারিক এবং অংশগ্রহণকারী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
দক্ষিণাঞ্চলীয় পরিষদের বৈঠক এবং স্ট্যান্ডিং কমিটির অধিবেশন দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলার কথা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে চলা নদীর জলবণ্টন ও সীমানা সংক্রান্ত বিরোধগুলি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করা হয়েছিল। এর মধ্যে কাবেরী ও কৃষ্ণা নদীর জলবণ্টন বিরোধ, কর্ণাটকের প্রস্তাবিত মেকেদাতু বাঁধ এবং মুল্লাপেরিয়ার বাঁধ সংক্রান্ত উদ্বেগ অন্যতম।
কর্ণাটক সীমান্তের কাছে সম্প্রতি তিন তামিল ব্যক্তিকে গুলি করার ঘটনাটিও তামিলনাড়ু সরকারের পক্ষ থেকে উত্থাপনের সম্ভাবনা ছিল। দুই রাজ্যের মধ্যে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সমন্বয় আরও উন্নত করার দাবিও জানানো হতে পারে।
দক্ষিণের রাজ্যগুলির ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টি মাথায় রেখে আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
বৈঠকের বৃহত্তর আলোচ্যসূচির মধ্যে ছিল আন্তঃরাজ্য সহযোগিতা জোরদার করা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্প বিনিয়োগ, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা। মহিলা ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ সংক্রান্ত মামলাগুলি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের প্রস্তাবও আলোচনায় আসতে পারে বলে জানানো হয়েছিল।
কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই দক্ষিণাঞ্চলীয় পরিষদ গঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করার পাশাপাশি রাজ্যগুলি কেন্দ্রের সামনে নিজেদের নির্দিষ্ট সমস্যাগুলিও তুলে ধরতে পারে এই পরিষদের বৈঠকে।
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, কোভালমের বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য ছিল প্রশাসনিক সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা এবং সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো বা ‘কো-অপারেটিভ ফেডারেলিজম’-কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। পাশাপাশি বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলির দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন দফতরের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
–আইএএনএস
এএএল/ডিপিবি



















