গুয়াহাটি, ১৯ আগস্ট (আইএএনএস): সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও সহজে পৌঁছে দিতে অসমের ৩৫টি জেলার ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) অফিসকে জনকেন্দ্রিক প্রশাসনিক কেন্দ্রে রূপান্তরের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। বুধবার গুয়াহাটিতে কামরূপ (মেট্রোপলিটন) জেলার ইন্টিগ্রেটেড ডিসি অফিসের উদ্বোধনের পর তিনি এ কথা বলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনের প্রতি আরও সংবেদনশীল করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেন, “অসমের ৩৫টি জেলার ডিসি অফিসকে জনকেন্দ্রিক কেন্দ্রে পরিণত করার জন্য আমরা সামগ্রিকভাবে কাজ করছি, যাতে মানুষের কাছে প্রশাসনিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া যায়।”
‘ন্যূনতম সরকার, সর্বাধিক সুশাসন’—এই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে আরও সরল ও নাগরিকবান্ধব করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর মতে, শুধু আধুনিক সরকারি পরিকাঠামো তৈরি করাই যথেষ্ট নয়, বরং নাগরিকদের যাতে সরকারি পরিষেবা পেতে বারবার প্রশাসনিক দফতরে ছুটতে না হয়, তা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোনও সরকারি পরিষেবা পেতে নাগরিকদের যখনই অফিসে আসতে হবে, তখন তাঁরা যেন সহজেই প্রয়োজনীয় পরিষেবা পান, তাঁদের সমস্যার সমাধান হয় এবং সন্তুষ্ট মনে বাড়ি ফিরতে পারেন।
হিমন্ত বিশ্বশর্মার বক্তব্যে প্রশাসনের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং সরকারি পরিষেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোর ওপর অসম সরকারের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে।
কামরূপ (মেট্রোপলিটন)-এর ইন্টিগ্রেটেড ডিসি অফিস এই বৃহত্তর উদ্যোগেরই অংশ। এর মাধ্যমে জেলা প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে নাগরিকদের যোগাযোগ আরও সহজ ও সুসংহত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের বাকি ৩৫টি জেলাতেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ডিসি অফিসগুলিকে শুধুমাত্র প্রচলিত প্রশাসনিক দফতর হিসেবে না দেখে আরও সহজলভ্য ও নাগরিকমুখী পরিষেবা কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশাসনিক সংস্কার, ডিজিটাল ব্যবস্থা এবং সরকারি পরিষেবা প্রদানের মানোন্নয়নে অসম সরকারের বৃহত্তর উদ্যোগের মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষ কত সহজে সরকারি পরিষেবা পাচ্ছেন এবং তাঁদের অভিযোগের কত দ্রুত সমাধান হচ্ছে—সুশাসনের প্রকৃত মাপকাঠি সেটিই।


















