লখনউ, ১৯ আগস্ট (আইএএনএস): জেলবন্দি প্রাক্তন রামপুর সাংসদ আজম খানের সঙ্গে যুক্ত একাধিক জায়গায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) তল্লাশি অভিযান নিয়ে বুধবার বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদব।
অখিলেশের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরই নিশানা করছে বিজেপি, অথচ দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত অন্যদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে অখিলেশ দাবি করেন, বিজেপির অবশিষ্ট ১-২ শতাংশ ‘সাম্প্রদায়িক ও সংকীর্ণমনা’ সমর্থকদের তুষ্ট করতেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
তিনি লেখেন, “শিক্ষাবিরোধী, শিক্ষকবিরোধী এবং ছাত্রবিরোধী বিজেপি ও তাদের সহযোগীরা স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার পর এখন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইডি অভিযান চালাচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হল সাম্প্রদায়িক ও সংকীর্ণমনা অযৌক্তিক চিন্তায় আটকে থাকা তাদের অবশিষ্ট ১-২ শতাংশ সমর্থককে তুষ্ট করা।”
এরপর একাধিক কথিত কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ তুলে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলেন এসপি প্রধান। তিনি রাম মন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত কথিত দুর্নীতি, কোডিন কেলেঙ্কারি এবং রাজ্যের বিভিন্ন এক্সপ্রেসওয়ের বেহাল দশার বিষয় উল্লেখ করেন।
অখিলেশের দাবি, বিজেপি সরকারের আমলে উত্তরপ্রদেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পরিকাঠামো প্রকল্পের অবনতি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বুন্দেলখণ্ড এক্সপ্রেসওয়ে বেহাল হয়ে পড়েছে, পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন অংশে গর্ত তৈরি হয়েছে এবং কানপুর-লখনউ এক্সপ্রেসওয়েতেও বহু গর্ত দেখা দিয়েছে।
কন্নৌজের সাংসদ আরও অভিযোগ করেন, গ্রিন করিডরে ফাটল, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, দুর্বল হয়ে পড়া সেতু, ভেঙে পড়া জলের ট্যাঙ্ক, ছাদে চুইয়ে পড়া জল এবং স্টেশনের দেওয়াল ভেঙে পড়ার মতো একাধিক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন অখিলেশ। তাঁর দাবি, শুধু উত্তরপ্রদেশেই নয়, অন্যান্য রাজ্যেও দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকরা ধরা পড়েছেন। মহাকুম্ভের সময় তহবিলের কথিত অপব্যবহার এবং স্মার্ট সিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এসপি প্রধান আরও অভিযোগ করেন, বিজেপির প্রতিনিধিদের একাংশ প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকা জমিতে বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইডি তল্লাশি চালানো হলেও এই ধরনের অভিযোগের মুখে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অখিলেশ।
তিনি আরও দাবি করেন, প্রায় ৭,০০০ কোটি টাকার একটি কথিত বণ্টন হয়েছিল এবং সেই অনিয়ম ও আপত্তিকর বক্তব্য থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই প্রচারের আবরণ তৈরি করা হয়েছিল।
আজম খান এবং মহম্মদ আলি জওহর বিশ্ববিদ্যালয় ও তার সঙ্গে যুক্ত ট্রাস্টের বিষয়ে অর্থপাচার তদন্তের অংশ হিসেবে উত্তরপ্রদেশ ও দিল্লির একাধিক জায়গায় ইডি তল্লাশি চালানোর পরই অখিলেশ যাদবের এই মন্তব্য সামনে এল।



















