নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৮ আগস্ট: মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির গুরুত্ব সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করতে আজ প্রজ্ঞাভবনের এক নং প্রেক্ষাগৃহে জাতীয় মহাকাশ দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়। ত্রিপুরা স্পেস অ্যাপ্লিকেশন্স সেন্টার (টিএসএসি) এবং নর্থ ইস্টার্ন স্পেস অ্যাপ্লিকেশনস সেন্টারের (এনইএসএসি) যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ দপ্তরের মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা।
তিনি বলেন, ২০২৩ সালের ২৩ আগস্ট চন্দ্র অভিযানের মাধ্যমে চন্দ্রযান ৩ সফলভাবে চাঁদে অবতরণ করে। ভারতের এই সাফল্য সারা বিশ্বে নজির সৃষ্টি করেছে। তাই সেই দিনটিকে মহাকাশ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। চন্দ্রযান ৩-এর বিক্রম লেন্ডারের সফল অবতরণ ভারতের মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নতুন চিন্তা, কৌতূহল এবং ভাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির মূল ভিত্তি। ভারতের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে উইং কমান্ডার রাকেশ শর্মার অবদানের কথাও তিনি তার আলোচনায় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম উপগ্রহ আমাদের দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক বড় ভূমিকা নিয়ে থাকে। আবহাওয়া, কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এই উপগ্রহের মাধ্যমে আমরা উপকৃত হই। ২০২৬ সালে ইসরো ১৩৫টি কৃত্রিম উপগ্রহ লঞ্চ করেছে। তিনি তার আলোচনায় মহাকাশ গবেষণায় ইসরোর ধারাবাহিক সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মানুষ এবং মেশিনকে এক সাথে কাজ করতে হবে। আমাদের রাজ্য ছোট হলেও স্বপ্ন আমাদের বড় হতে হবে এবং বিকশিত ভারত ২০৪৭ এর স্বপ্ন বাস্তবায়নে নতুন প্রজন্মকে নতুন চিন্তাধারা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি এসএএসডি, এনইএসএসি-এর প্রধান ড. শ্যাম এস. কুন্ডু ত্রিপুরা সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজেদের স্টার্টআপ নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে। গতবছর উত্তর পূর্বাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন সুযোগ ও সম্ভাবনার সাথে পরিচয় করিয়ে এনই-এসপিএআরকেএস-এর আওতায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিশেষ উদ্যোগে ত্রিপুরার ১০০ জন শিক্ষার্থী সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের ৮০০ জন শিক্ষার্থী বেঙ্গালুরুস্থিত ইসরোর সেন্টার পরিদর্শন করে।
শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ক চিন্তাধারা প্রসারের জন্য যুবা বিজ্ঞানী কার্যক্রম নামক একটি অনুষ্ঠান ইসরোর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। যার ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন তথ্যে সমৃদ্ধ হয়। তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলায় কিভাবে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব তা নিয়েও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন।
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ দপ্তরের প্রধান সচিব চৈতন্য মূর্তি বলেন, জাতীয় মহাকাশ দিবসের মূল লক্ষ্য হলো মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতি সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীদের অবহিত করা। তিনি তার আলোচনায় ভারতের সকল বিজ্ঞানীদের প্রতি তার শ্রদ্ধা জানান এবং চন্দ্রযান ৩ সম্পর্কে আলোচনা করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশুনা করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে রাজ্য বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ দপ্তরের অধিকর্তা মহেন্দ্র সিং স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এই অনুষ্ঠানে জিও স্পেক্ট্রাম নামক একটি স্মরণিকার আবরণ উন্মোচন করেন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ দপ্তরের মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা। এই অনুষ্ঠানে শহরের প্রায় ১৫টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সহ শিক্ষক শিক্ষিকারা অংশগ্রহণ করেন। তার মধ্যে ১৩টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। এই ক্যুইজ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে উমাকান্ত একাডেমি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থীরা এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে পিএম-শ্রী সেকেরকোট হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা। এছাড়াও জুনিয়র ম্যাথমেটিক্স অলিম্পিয়াড এওয়ার্ড ২০২৫ এর প্রথম ১০ জনের হাতে পুরস্কার এবং অর্থরাশি তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা।
























