নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৬ জুলাই: চোত্তাখলাতে ঘটে যাওয়া ঘটনায় আমি গভীরভাবে দুঃখিত। তবে দায়িত্বশীল আধিকারিকের কর্তব্যের নির্লিপ্ততায় আমাকে রাজপথে দাঁড়িয়ে কটু কথা বলতে বাধ্য করা হয়েছে। বিলোনিয়ার চোত্তাখলাতে ঘটে যাওয়া ঘটনা প্রসঙ্গে এমনটাই বললেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী।
দ্য অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশন, ত্রিপুরা চ্যাপ্টার বিরোধী দলনেতার মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিলেও, তার জবাবে জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, তিনি ওই সংগঠনের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে কোনও আধিকারিকের কর্তব্যে গাফিলতি যেন গোটা প্রশাসন বা পুলিশ বাহিনীর সুনাম নষ্ট না করে, সেদিকেও সংগঠনের নজর রাখা উচিত। তিনি দাবি করেন, কোনও ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে নয়, বরং পরিস্থিতির কারণে তাঁকে কঠোর ভাষায় মন্তব্য করতে হয়েছে।
তাঁর কথায়, সংস্থার অনুভূতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখেই বলছি এই সংস্থারও অবশ্যই যত্নশীল থাকা দরকার তাঁদের কোন সদস্যের অকর্মণ্যতা, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে অনীহা যেন নিজেদের সুনাম এবং গোটা ব্যবস্থাকে কলঙ্কিত ও দুর্বল না করে। তিনি বলেন, আমি গভীরভাবে দুঃক্ষিত একজন দায়িত্বশীল আধিকারিকের কর্তব্যে নির্লিপ্ততায় আমাকে রাজপথে দাঁড়িয়ে এতগুলি কটু (কিন্তু অনিবার্য) কথা বলতে বাধ্য করা হয়েছে। ত্রিপুরা রাজ্যের আরক্ষা ও সাধারণ প্রশাসনের উপর থেকে নীচু তলা অব্দি সমস্ত সৎ ও নিষ্ঠাবান আধিকারিক ও অধস্তন কর্মীদের প্রতি ব্যক্তিগতভাবে আমার ও আমাদের পার্টি সিপিআই(এম)-এর সর্বদা আস্থা ছিল এবং থাকবে।
ঘটনা সম্পর্কে উল্লেখ করতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা বলেন, ১৫ জুলাই চোত্তাখলায় বাদল শীলের স্মরণসভা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির জন্য প্রশাসনের অনুমতি থাকলেও, সম্ভাব্য উত্তেজনার কথা বিবেচনা করে ১৩ জুলাই দক্ষিণ ত্রিপুরার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার আবেদন জানানো হয়। পরদিন তিনি নিজেও রাজ্য পুলিশের ডিজিপির সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি অবগত করেন বলে দাবি করেন।
জিতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ, প্রশাসনের আশ্বাস সত্ত্বেও কর্মসূচির দিন সকাল থেকেই বিজেপি-সমর্থিত সমাজবিরোধীরা চোত্তাখলায় জড়ো হয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন শুরু করে। বিষয়টি বারবার পুলিশকে জানানো হলেও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তাঁর দাবি, বিকেল তিনটায় কর্মসূচিতে অংশ নিতে সিপিআই(এম)-এর কর্মী-সমর্থকরা সভাস্থলের দিকে গেলে পুলিশের সামনেই তিনটি গাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং অন্তত পাঁচ থেকে ছয়জন গুরুতর আহত হন। ঘটনার খবর পেয়ে তিনি দক্ষিণ ত্রিপুরার এসপি-র সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনও সাড়া পাননি। পরে ডিজিপির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এসপি-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার আশ্বাস দেন বলে জিতেন্দ্র চৌধুরীর দাবি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, চোত্তাখলায় পৌঁছানোর প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার আগে থেকে একাধিকবার পুলিশ তাঁর গাড়ি আটকে দেয়। প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্বের পর সভাস্থলের কাছে পৌঁছালে অতিরিক্ত এসপি ও এক ডেপুটি কালেক্টরের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী তাঁদের পথরোধ করে। অথচ আইনভঙ্গকারী ও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে পুলিশ গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি করেছে বলে তাঁর অভিযোগ।
এই ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, সন্ত্রাসবাদ দমনে আত্মত্যাগের মাধ্যমে যে ত্রিপুরা পুলিশ দেশজুড়ে সম্মান অর্জন করেছে, কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন আধিকারিকের জন্য সেই বাহিনীর মর্যাদা আজ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। পুলিশের মর্যাদা এবং উর্দির পবিত্রতা এখন দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার এসপি-র মত রাষ্ট্রীয় কর্তব্য পালনে অক্ষম কতিপয় আধিকারিকের জন্য মাটিতে লুটছে।



















