তেলিয়ামুড়া, ১৩ এপ্রিল: আবারও বেপরোয়া গতির জেরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকলো তেলিয়ামুড়া। সোমবার করইলং এলাকায় তেলিয়ামুড়া বাজারমুখী একটি যাত্রীবাহী সব্জি টমটমের সঙ্গে খোয়াই দিক থেকে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন যাত্রী গুরুতরভাবে আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ছিল যে টমটমটি সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের তৎপরতায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আহতদের মধ্যে রয়েছেন সুজিত দেবনাথ, নয়ন দাস, পবন দেবনাথ এবং রমজান মিয়া।
ঘটনার পরই উঠতে শুরু করেছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ। আহতদের দাবি, অ্যাম্বুলেন্স চালক বিমল দাস মদ্যপ অবস্থায় অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, যার ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, অ্যাম্বুলেন্সে চিকিৎসক অনির্বাণ ভৌমিকও উপস্থিত ছিলেন, যিনি খোয়াই থেকে একটি জরুরি বৈঠক সেরে ফিরছিলেন।
এদিকে, অভিযুক্ত চালক বিমল দাসের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক অভিযোগ থাকার তথ্য সামনে এসেছে। তেল চুরির অভিযোগ থেকে শুরু করে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালনার মতো ঘটনায় তাকে পূর্বে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতাল থেকে বদলি করে উত্তর মহারানী প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। তবে মাত্র কয়েকদিন আগে রহস্যজনকভাবে তাকে আবার তেলিয়ামুড়ায় ফিরিয়ে আনা হয় বলে অভিযোগ।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে—এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন ওই চালককে পুনরায় দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হল? কার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে? সাধারণ মানুষের প্রাণ নিয়ে এমন অবহেলা আর কতদিন চলবে?
ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। দোষীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।



















