আগরতলা, ১১ এপ্রিল: ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) নির্বাচনের প্রচার গতকাল বিকেল ৪টায় শেষ হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আগামী ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য ভোটগ্রহণের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে নির্বাচন দফতর সূত্রে জানা গেছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ৯,৬২,৬৯৭ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে ৪,৮২,০২৫ জন পুরুষ, ৪,৮০,৬৬৬ জন মহিলা এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৬ জন ভোটার রয়েছেন। রাজ্যের ২৮টি আসনে মোট ১৭৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভারতীয় জনতা পার্টি, তিপ্রা মথা পার্টি, সিপিআই(এম)-সহ বামফ্রন্ট, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং আইপিএফটি সহ একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় এবারের লড়াই বহুমুখী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে চলেছে।
অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ত্রিপুরা রাজ্য নির্বাচন কমিশন (এসইসি) ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে রাজ্যজুড়ে ২৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের মতে, ভোটের আগে, চলাকালীন এবং পরে এই বাহিনী নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসনও বিস্তৃত পদক্ষেপ নিয়েছে। সমস্ত প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারি করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারদের সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ভোটকর্মীদের নিরাপদে নির্ধারিত বুথে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোটগ্রহণের জন্য প্রায় ৩,৫০০টি ইভিএম প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা মধ্যপ্রদেশ থেকে আনা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এগুলি কড়া নিরাপত্তার মধ্যে স্ট্রং রুমে সংরক্ষিত রয়েছে।
পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাও প্রায় সম্পূর্ণ হয়েছে, যেখানে প্রায় ৯৭ শতাংশ ভোট ইতিমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে। বাকি ব্যালট ডাকযোগে প্রেরণ করা হয়েছে। ভোটারদের আস্থা বাড়াতে বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত ফ্ল্যাগ মার্চ ও টহল চালানো হচ্ছে।
নির্বাচন উপলক্ষে ১০ এপ্রিল বিকেল ৪টা থেকে ১৩ এপ্রিল সকাল ৬টা পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক আইন অনুযায়ী বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে ৪৮ ঘণ্টার নীরবতা পর্ব কার্যকর রয়েছে, যার মধ্যে কোনো ধরনের প্রচার বা নির্বাচনী কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
১১ এপ্রিল থেকে নিরাপত্তার মধ্যে ভোটকর্মীদের বুথে পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে ভোটার ও কর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
যেসব ভোটারের কাছে ইপিক কার্ড নেই, তাঁদের জন্য আধার, প্যান, পাসপোর্টসহ অন্যান্য বিকল্প পরিচয়পত্র ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, নির্বাচনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপের ভিডিওগ্রাফি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে।
উল্লেখ্য, এই নির্বাচনের ভোটগণনা আগামী ১৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য প্রশিক্ষিত কর্মী ও ইসিআইএল ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়োগ করা হয়েছে, যাতে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে ফলাফল ঘোষণা করা যায়।



















