ঢাকা, ১০ এপ্রিল(আইএএনএস): বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল আওয়ামী লীগ। দলটি অভিযোগ করেছে, শাসক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে।
এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ জানায়, প্রাক্তন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনুস-এর আমলে জারি হওয়া কিছু অধ্যাদেশ এখন আইন হিসেবে কার্যকর করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক রাজনীতির পরিপন্থী। তাদের দাবি, বিএনপি আগে এই অধ্যাদেশগুলির বিরোধিতা করলেও এখন সেগুলিই কার্যকর করছে, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
দলটির অভিযোগ, ওই সময় নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং বর্তমানে সেই নির্দেশকেই আইনে পরিণত করেছে সরকার। “জনসমর্থন না থাকলে কোনও রাজনৈতিক দল টিকে থাকতে পারে না, আবার জনসমর্থন থাকলে আইন করে তাকে দমনও করা যায় না,”—বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ আরও জানায়, দলটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষের সঙ্গে যুক্ত একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন, তাই তাদের নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত জনবিরোধী।
এছাড়াও, প্রাক্তন স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী-এর গ্রেফতারি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি। তাদের দাবি, তাঁকে অন্যায়ভাবে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে এবং পরে “নাটকীয়ভাবে” গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, যা সৎ ও নিষ্ঠাবান রাজনীতির ওপর আঘাত।
দলটি আরও অভিযোগ করেছে, তাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। চট্টগ্রামে মোহাম্মদ শামীম ও আলাল শেখ-সহ একাধিক নেতা-কর্মীর মৃত্যুর ঘটনাও তুলে ধরে তারা।
আওয়ামী লীগের অভিযোগ, নতুন করে ভুয়ো মামলা দায়ের করা হচ্ছে এবং মামলার নামে চাঁদাবাজিও চলছে। সফুরা বেগম রুমিকেও “অন্যায়ভাবে” গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দলটি সরকারের কাছে সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যথায় দেশের মানুষ নিজেদের পথ নিজেই নির্ধারণ করবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।



















