নয়াদিল্লি, ১০ এপ্রিল(আইএএনএস): ভুয়ো ভিসা ও বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা চালানো এক আন্তঃরাজ্য সাইবার জালিয়াত চক্রের পর্দাফাঁস করল দিল্লি পুলিশ। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে শুক্রবার জানানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল-এ একটি অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। প্রযুক্তিগত নজরদারি ও ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অভিযুক্তদের অবস্থান চিহ্নিত করে দিল্লির রানি বাগ এলাকায় হানা দেয় পুলিশ এবং মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে।
দক্ষিণ জেলার সাইবার থানায় ২৬ মার্চ দায়ের হওয়া এফআইআর (নং ১৬/২৬)-এ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-এর ৩১৮(৪) ও ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বিদেশে চাকরি ও ভিসা দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করা একটি সংগঠিত সাইবার চক্রকে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।”
অভিযোগ অনুযায়ী, এক ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ পেয়ে বিদেশে চাকরির প্রলোভনে টাকা দেন। এরপর টাকা নেওয়ার পর অভিযুক্তরা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্রের সদস্যরা সোশ্যাল মিডিয়া ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ভুয়ো বিদেশি চাকরির প্রস্তাব দিত এবং জাল ভিসা দেখিয়ে বিশ্বাস অর্জন করত। প্রতিটি ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১৫ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হত।
এই মামলায় গ্রেফতার তিনজন হলেন—হুগলি (পশ্চিমবঙ্গ)-এর নন্দ কিশোর প্রসাদ, বিহারের ঔরঙ্গাবাদের আহমদ হায়াত খান এবং দিল্লির শাহিন বাগের মুস্তাক খান। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে একজন এমবিএ (মার্কেটিং ও সেলস) ডিগ্রিধারী এবং অন্যজন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক।
জেরায় জানা গেছে, এই চক্রের মূলচক্রী শাদাব ওরফে মহম্মদ খুশনুদ, যিনি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের তথ্য সংগ্রহ করতেন।
পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল ও নথিপত্র, যার মধ্যে রয়েছে ৬টি স্মার্টফোন, ২টি ল্যাপটপ, ৪টি ডেস্কটপ কম্পিউটার, ১৪টি পাসপোর্ট, ভুয়ো ভিসার নথি, জাল সিল-মোহরসহ একাধিক প্রমাণ।
জব্দ করা ডিভাইসগুলির ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। পাশাপাশি, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে পুলিশ জানিয়েছে, বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখানো অনলাইন বার্তার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে এবং কোনও আর্থিক লেনদেনের আগে প্রস্তাবের সত্যতা যাচাই করা জরুরি।



















