ঢাকা, ৮ এপ্রিল (আইএএনএস): হাম রোগের প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশে ১২৮ জনের বেশি মৃত্যুর প্রেক্ষিতে প্রাক্তন অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনুস-এর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাল আওয়ামী লীগ। দলের নেতা মোহাম্মদ আলি আরাফাত অভিযোগ করেন, ইউনুস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশের জনকল্যাণমূলক একাধিক প্রকল্প বন্ধ করে দিয়ে দেশকে “বিপর্যয়ের মুখে” ঠেলে দিয়েছে।
বুধবার এক্স-এ আরাফাত দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ইউনুস সরকার শেখ হাসিনা-নেতৃত্বাধীন সরকারের চালু করা জাতীয় টিকাকরণ কর্মসূচি-সহ একাধিক প্রকল্প বাতিল করে দেয়। এর ফলেই শিশুদের মধ্যে মৃত্যুহার বেড়েছে এবং নবজাতক পরিবারগুলির মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যেই ১২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই শিশু। গত ২৪ ঘণ্টাতেই সন্দেহজনক হাম-এ আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
আরাফাত বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় টিকাকরণের হার ৯০ শতাংশের বেশি ছিল, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যেও প্রতিফলিত। কিন্তু ২০২৫ সালে তা নেমে আসে ৫৯.৬ শতাংশে, যা বড় ধরনের পতন এবং স্বাস্থ্যনীতির ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
তিনি আরও বলেন, “শিশুদের মতো সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য জীবনরক্ষাকারী টিকা সরবরাহে ব্যর্থতা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের সামিল। টিকাকরণ কমে গেলে প্রতিরোধযোগ্য রোগের ঝুঁকি ও শিশুমৃত্যুর হার বাড়ে, যা শুধু নীতিগত ব্যর্থতা নয়, গোটা ব্যবস্থার ব্যর্থতা।”
আওয়ামী লীগ নেতা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনকালে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অগ্রাধিকারের পরিবর্তনের ফলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, “ইউনুস প্রশাসন কেবল আওয়ামী লীগকে দমন করতেই ব্যস্ত ছিল, আর বর্তমান কর্তৃপক্ষ সমস্যার সমাধানের বদলে দোষারোপের রাজনীতিতে ব্যস্ত।”
পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে আন্তর্জাতিক স্তরেও প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করে আরাফাত বলেন, এতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে নেতিবাচক শ্রেণিবিভাগ হতে পারে, যা শিক্ষা, শ্রমবাজার এবং অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।
শেষে তিনি বলেন, “দেশকে বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়ার জন্য ইউনুস প্রশাসনকে জবাবদিহি করতে হবে।”



















