আগরতলা, ৬ এপ্রিল: উন্নয়নের নিরিখে মানুষ এখন ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করতে চাইছেন। ভারতীয় জনতা পার্টির নীতি আগে দেশ, পরে পার্টি এবং শেষে ব্যক্তি কিন্তু তিপ্রা মথা সিপিএমের মতো দলগুলোতে আগে ব্যক্তি কিংবা পার্টি,পরে দেশ। এবারের এডিসি নির্বাচনে তিপ্রা মথাকে শূণ্যের কোটায় পৌঁছে দিতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেস আর তিপ্রা মথা পার্টির মধ্যে নীতিগত কোন পার্থক্য নেই।
আসন্ন এডিসি নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ উত্তর জেলার দশদা বাজারে ভারতীয় জনতা পার্টি মনোনীত প্রার্থী শৈলেন্দ্র নাথের সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে উপস্থিত থেকে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, ১৯৮০ সালে প্রাক্তন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর হাত ধরে ভারতীয় জনতা পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়। দুজন মাত্র সাংসদ ছিলেন। এনিয়ে অনেকে হাসাহাসি করতেন। আর আজ পার্টির গ্রাফ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে তিনবারের মতো ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। আর এবার ২০২৬ এর এডিসি নির্বাচন শুধু একটা সামান্য নির্বাচন নয়। এটা একটা ইতিহাস তৈরি করতে যাচ্ছে। এবারই প্রথমবারের মতো এডিসির ২৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি। এবার এডিসির মধ্যে ইতিহাস তৈরি করতে যাচ্ছেন আপনারা। আমাদের ভারতীয় জনতা পার্টি প্রথমে দেশ ও রাজ্যের কথা চিন্তা করে। তারপর পার্টি, তারপর নিজের কথা চিন্তা করে।
সভায় বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এডিসিকে নিয়ে এত বছর ধরে শুধু রাজনীতি হয়েছে। এর প্রভাব হিসেবে রাজ্য বিধানসভায় ২০টা আসন থেকে গনা শুরু করতো কমিউনিস্টরা। দুর্নীতির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ সিপিএমের ক্যাডাররা আগে টাকার বিছানায় শুয়ে থাকতো। যারা আগে বিধানসভায় ২০টি সিট থেকে গনা শুরু করতো, আজ তারা পাহাড়ে শূন্যের কোটায়। তাদের কাছে ২০ ছিল কনফার্ম। কিন্তু এবার অন্যরকম হবে। আমি যেখানে যাই সেখানেই মানুষ ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করতে চাইছেন। আমরা চাই না কোন জায়গায় দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হোক। কিন্তু কমিউনিস্টরা সেসব করে করে অভ্যস্ত। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর রাজত্ব করেছিল তারা। মাঝখানে ৫ বছর জোট আমল এসেছিল। মানুষ তাদের অনেক সুযোগ দিয়েছে। কমিউনিস্টদের সন্ত্রাস, দুর্নীতি, কেলেঙ্কারি থেকে মুক্তি চেয়েছিল মানুষ। আমরা সবাই জানি কিভাবে কমিউনিস্টরা রাজ্যে ক্ষমতায় আসে। লুটপাট করা আর মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা ছিল তাদের লক্ষ্য। মালিকের সাথে শ্রমিক, জনজাতির সঙ্গে বাঙালি, সংখ্যালঘুদের সঙ্গে বিভাজন করাই ছিল তাদের নীতি। এই বিভাজনের মাধ্যমে এতদিন তারা সরকার চালিয়েছিল।
প্রধান বক্তা হিসেবে সমাবেশে মুখ্যমন্ত্রী আহ্বান রাখেন যে ৩ নং দশদা-কাঞ্চনপুর কেন্দ্রে ভারতীয় জনতা পার্টি মনোনীত প্রার্থী শৈলেন্দ্র নাথকে আগামী ১২ তারিখ এডিসি নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী করবেন। তাঁর মতো একজন সজ্জন ব্যক্তিকে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠালে কাজের কাজ হবে। শৈলেন্দ্র বাবু কাঞ্চনপুরের উদ্বাস্তু বাঙালিদের সমস্যা নিয়ে প্রায় সময় আমার সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর কথা মতো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আমি দিল্লিতে যশস্বী গৃহমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে কথা বলেছি। কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রীর আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আমি আশা করি আগামীদিনে এই সমস্যার একটা স্থায়ী সমাধান হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে টিএমসি অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেস। আর ত্রিপুরায় টিএমপি মানে তিপ্রা মথা পার্টি। এই দুই পার্টির মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। গতকালও আমাদের এক মন্ত্রীকে আক্রমণ করেছে। সেই সঙ্গে আমাদের এক প্রার্থীর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার মাথায় আঘাত লেগেছে। এডিসি নির্বাচনে আমাদের ২৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০টি জায়গায় শারীরিক আক্রমণ, বাড়িঘরে আক্রমণ সহ ইত্যাদি ঘটনা করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও একই অবস্থা। ড. শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি না থাকলে আজকের পশ্চিমবঙ্গ তৈরি হতো না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আজ পশ্চিমবঙ্গেও খুন, সন্ত্রাস, মারপিটের মতো ঘটনা। কিন্তু এবার পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস চলে যাবে।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক যাদব লাল নাথ, উত্তর জেলা সভাপতি কাজল কুমার দাস, প্রার্থী শৈলেন্দ্র নাথ সহ ভারতীয় জনতা পার্টির বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব।



















