সংযুক্ত রাষ্ট্রসংঘ, ২ এপ্রিল(আইএএনএস): ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বেসামরিক পরিকাঠামোর উপর হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন সংস্থা।রাষ্ট্রসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দফতর জাতিসংঘ মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় জানিয়েছে, এই হামলায় ইরানের জরুরি পরিষেবাগুলি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ৩০৯টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ৪২টি অ্যাম্বুল্যান্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাতটি হাসপাতাল খালি করতে হয়েছে।বিদ্যুৎ বিপর্যয় এবং পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার ঘটনাও একাধিক জায়গায় ঘটেছে। হরমোজগান প্রদেশের কেশম দ্বীপের একটি ডেসালিনেশন প্ল্যান্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির হিসেব অনুযায়ী, ১ লক্ষ ১৫ হাজারেরও বেশি বেসামরিক ভবন—যার মধ্যে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসন ও বাণিজ্যিক স্থাপনা রয়েছে—ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৭০০-র বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রক।রাষ্ট্রসংঘের শরণার্থী সংস্থা জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, তারা ৪২ হাজারেরও বেশি আফগান শরণার্থীকে বিভিন্ন সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আটকে পড়া অভিবাসীদের সুরক্ষা ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে চলেছে।এদিকে লেবানন-এও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সেখানে প্রয়োজনীয় ৩০৮ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ অর্থ জোগাড় হয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণে সংঘর্ষ বাড়ার পর থেকে অন্তত ১,২৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩,৭৫০ জন আহত হয়েছেন।গাজাতেও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে চলছে। কেরেম শালোম (কারেম আবু সালেম) সীমান্তই বর্তমানে একমাত্র পণ্য প্রবেশপথ। সেখানে সম্প্রতি ২.৭ লক্ষ লিটারের বেশি জ্বালানি আনা হয়েছে জরুরি পরিষেবা সচল রাখতে।খাদ্য ও কৃষি সংস্থা খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং ইউনিসেফের মতো সংস্থাগুলি খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে স্থানীয় কৃষকদের সহায়তায় আর্থিক প্রকল্পও বাড়ানো হয়েছে।অন্যদিকে, এই সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়ছে। জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে গিয়েছে, যা বিশ্ব বাণিজ্য ও তেলের দামের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।রাষ্ট্রসংঘের মতে, পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।



















