রায়পুর, ২ এপ্রিল(আইএএনএস): খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল গেমস ২০২৬-এ হকিতে পুরুষ ও মহিলা—দুই বিভাগেই সোনা জিতে নজর কাড়ল ওড়িশা। তবে এই সাফল্য শুধু পদকের নয়, বরং দেশের আদিবাসী অঞ্চলে হকির মাধ্যমে বদলে যাওয়া জীবনের গল্পও তুলে ধরল।রায়পুরের বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে পুরুষ বিভাগে ঝাড়খণ্ডকে ৪-১ ব্যবধানে হারায় ওড়িশা। মহিলাদের বিভাগে মিজোরামকে ১-০ গোলে হারিয়ে সোনা জেতে তারা। পুরুষ বিভাগে ঝাড়খণ্ড পায় রুপো, ছত্তিশগড় পায় ব্রোঞ্জ। মহিলাদের বিভাগে ঝাড়খণ্ড ব্রোঞ্জ জিতে পডিয়াম সম্পূর্ণ করে।এই সাফল্যের আড়ালে রয়েছে বহু বছরের সংগ্রাম। ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড়ের গ্রামাঞ্চলে বহুদিন ধরেই হকি জীবনের অংশ—গাছের ডাল দিয়ে তৈরি স্টিক, খালি পায়ে মাঠে খেলা—সেখান থেকেই উঠে আসছে প্রতিভা।কিন্তু আগে সেই প্রতিভা বিকাশের সুযোগ ছিল না। এখন কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রক ও রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’, উন্নত পরিকাঠামো এবং গ্রাসরুট স্তরে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গড়ে উঠছে, যা এই প্রতিভাদের সামনে নতুন পথ খুলে দিচ্ছে।প্রাক্তন অলিম্পিয়ান অজিত লাখরা, যিনি বর্তমানে বিলাসপুর সেন্টার অফ এক্সেলেন্স-এর প্রধান কোচ, বলেন, “গ্রাসরুট থেকে জুনিয়র ও সিনিয়র স্তর পর্যন্ত একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে আদিবাসী অঞ্চলের খেলোয়াড়রা এর ফলে অনেক উপকৃত হচ্ছে।”আরও এক প্রাক্তন অলিম্পিয়ান মনোহর টপনো মনে করেন, “আমাদের সমাজে হকি স্বাভাবিকভাবেই খেলা হয়। সঠিক দিশা পেলে এই খেলোয়াড়রাই একদিন দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।”এই পরিবর্তনে বড় ভূমিকা নিচ্ছে ‘খেলো ইন্ডিয়া’ ও ‘অস্মিতা’ প্রকল্প, যেখানে বিশেষ করে মহিলা খেলোয়াড়দেরও মূল ধারায় আনা হচ্ছে।হকি ইন্ডিয়ার সদস্য অসৃতা লাখরা বলেন, “এই অঞ্চলের বাচ্চাদের রক্তেই হকি আছে। এখন সুযোগ ও প্রশিক্ষণ বাড়ায় তারা জাতীয় স্তরে পৌঁছতে পারছে।”এখন ক্রীড়া বিজ্ঞানের সহায়তা, ফিজিওথেরাপি, ভিডিও বিশ্লেষণের মতো আধুনিক সুবিধাও পৌঁছে যাচ্ছে দূরবর্তী এলাকায়। ফলে স্বাভাবিক প্রতিভা ও আধুনিক প্রশিক্ষণের মেলবন্ধনে তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা।একসময় নকশাল প্রভাবিত ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলিতেও এখন হকি হয়ে উঠছে ঐক্যের প্রতীক এবং উন্নতির হাতিয়ার। গ্রামের মাঠ থেকে আন্তর্জাতিক স্বপ্ন—এই পথেই এগোচ্ছে ভারতের নতুন প্রজন্মের আদিবাসী হকি খেলোয়াড়রা।



















