নয়াদিল্লি, ১ এপ্রিল(আইএএনএস): ‘নকশালমুক্ত ভারত’-এর লক্ষ্যে বড় সাফল্যের দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানান, নকশাল সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের অধিকাংশ সদস্য হয় নিহত, নয় গ্রেফতার বা আত্মসমর্পণ করেছে। অবশিষ্ট শেষ সক্রিয় সদস্যের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।
একসময় তিরুপতি থেকে নেপাল পর্যন্ত বিস্তৃত ‘রেড করিডর’ এখন ১২৬টি জেলা থেকে সঙ্কুচিত হয়ে মাত্র দু’টি জেলায় সীমাবদ্ধ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
কেন্দ্রের কড়া নীতি ও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান ছাড়াও গোয়েন্দা সংস্থাগুলির নীরব কিন্তু কার্যকর ভূমিকা এই সাফল্যের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
সূত্রের দাবি, কেন্দ্রীয় সংরক্ষিত পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ)-এর গোয়েন্দা শাখাকে সক্রিয় করে নকশালদের চিহ্নিতকরণে বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়। প্রতিটি ব্যাটালিয়নের অধীনে আলাদা গোয়েন্দা ইউনিট গঠন করা হয়, যারা গ্রাম ও জঙ্গলে নকশালদের উপস্থিতি এবং নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে।
এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের আস্থা অর্জন ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। শুরুতে গ্রামবাসীরা সহযোগিতা করতে অনীহা দেখালেও, নিরাপত্তা বাহিনী দীর্ঘ সময় ধরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে বিশ্বাস অর্জন করে। উন্নয়নমূলক কাজ—যেমন রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা—নিয়ে সচেতনতা তৈরি করে নকশালদের প্রভাব কমানো হয়।
এক আধিকারিকের মতে, এই প্রচেষ্টার ফলে গ্রামবাসীরাই পরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে শুরু করেন। প্রায় ৯০ শতাংশ গোয়েন্দা তথ্য ‘গ্রেড এ’ মানের এবং অত্যন্ত কার্যকর ছিল বলে দাবি।
রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য ব্যবস্থাও বড় পরিবর্তন আনে। এর ফলে নকশালদের হামলা, বিশেষ করে আইইডি বিস্ফোরণ, প্রতিরোধ করা সম্ভব হয় এবং নিরাপত্তা বাহিনী আগাম অভিযান চালিয়ে তাদের দমন করতে সক্ষম হয়।
উল্লেখ্য, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নকশালবাদের অবসান ঘটানোর লক্ষ্য নিয়েই এই অভিযান চালানো হয়েছিল, যেখানে উন্নয়ন, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে কেন্দ্রের দাবি।



















