নকশালমুক্ত ভারতের ডেডলাইনের আগে ছত্তিশগড়ে আত্মসমর্পণ আরও দুই মাওবাদীর

রায়পুর/কাঙ্কের, ৩১ মার্চ(আইএএনএস): কেন্দ্রের নির্ধারিত “নকশালমুক্ত ভারত” গড়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ছত্তিশগড়ের কাঙ্কের জেলায় আরও দুই মাওবাদী আত্মসমর্পণ করলেন। এই ঘটনায় বামপন্থী উগ্রবাদ দমনের অভিযানে নতুন গতি এসেছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা আধিকারিকরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ‘হিদমে’ ও ‘শঙ্কর’ নামে পরিচিত ওই দুই মাওবাদী কাঙ্কেরে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাঁদের কাছে থাকা অস্ত্র জমা দেন। তাঁদের মধ্যে একজনের কাছে একটি একে-৪৭ রাইফেল ছিল, যা উদ্ধার হওয়ায় মাওবাদীদের অস্ত্রশক্তি দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মাওবাদী মতাদর্শে হতাশা এবং এলাকায় উন্নয়নের সম্ভাবনা বাড়ায় মূল স্রোতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ওই দুই ব্যক্তি।

গত কয়েক বছরে ছত্তিশগড়ে মাওবাদীদের আত্মসমর্পণের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রাজ্যের পুনর্বাসন নীতির আওতায় হাজার হাজার মাওবাদী ইতিমধ্যেই সহিংসতার পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। যদিও এখনও কাঙ্কের জেলার জঙ্গলে প্রায় ১১৫ জন সক্রিয় মাওবাদী রয়েছে বলে অনুমান প্রশাসনের।

এদিকে, সোমবার লোকসভায় ‘নকশালমুক্ত ভারত’ নিয়ে আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, একসময় ১২টি রাজ্যজুড়ে বিস্তৃত ‘রেড করিডর’-এ নকশাল প্রভাব এখন অনেকটাই কমে এসেছে। বিশেষ করে বাস্তার অঞ্চলে নকশালবাদ প্রায় সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, বাস্তার অঞ্চলের প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে স্কুল ও রেশন দোকান খোলার মতো বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রশাসনের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়।

অন্যদিকে, সোমবারই রাজনন্দগাঁও জেলার মোহলা-মানপুর-অম্বাগড় চৌকি এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী একটি বড় মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করে। সেখানে একটি একে-৪৭, একটি ইনসাস রাইফেল এবং ৪৬ রাউন্ড জীবন্ত গুলি পাওয়া গেছে, যা মাওবাদী নেটওয়ার্কের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কেন্দ্র সরকার ৩১ মার্চ, ২০২৬-কে দেশ থেকে নকশালবাদ নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে নির্ধারণ করেছিল। গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক নিরাপত্তা অভিযান, উন্নয়নমূলক কাজ এবং আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতির ফলে নকশাল প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পূর্ণ নির্মূল করা কিছুটা কঠিন হলেও পরিস্থিতি এখন নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষে অনেকটাই অনুকূল। কাঙ্কেরের সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, অবশিষ্ট মাওবাদীদের আত্মসমর্পণে উৎসাহিত করতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

হিদমে ও শঙ্করের আত্মসমর্পণ ছত্তিশগড়ের নকশাল-প্রভাবিত এলাকায় বদলে যাওয়া পরিস্থিতিরই স্পষ্ট ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply