কলকাতা, ৩১ মার্চ : পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) দফতরের বাইরে মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) এবং বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তীব্র বচসা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ফর্ম-৬ জমা দেওয়া নিয়ে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে।
বিজেপির অভিযোগ, রাজ্য পুলিশ তৃণমূল কর্মীদের পক্ষ নিয়ে কাজ করছে এবং তাদের ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, বিজেপি বাইরে থেকে লোক এনে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে এবং নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তাদের ‘যোগসাজশ’ রয়েছে।
আগামী মাসে দুই দফায় অনুষ্ঠিত হতে চলা বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনা রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বিজেপি কর্মী কুশল পান্ডে জানান, আমরাও এখানে ধর্নায় বসেছিলাম। তৃণমূলের লোকজন আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে এবং পুলিশ আমাদেরই আটকাচ্ছে। আমরা আর চুপ করে থাকব না।
অন্য এক বিজেপি কর্মী কালী কার্তিক অভিযোগ করেন, পুলিশ শুধু আমাদের সরতে বলছে, তৃণমূল কর্মীদের নয়। আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। আমরা এক ইঞ্চিও পিছিয়ে যাব না। তিনি আরও দাবি করেন, এটা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর সচিন সিংহ বিজেপির বিরুদ্ধে গণতন্ত্র নষ্ট করার অভিযোগ তুলে বলেন, ফর্ম-৬ ব্যবহার করে বাইরে থেকে লোক এনে ভোটার তালিকায় নাম তোলা হচ্ছে। এটা সংবিধান ও গণতন্ত্রের হত্যা। মানুষ এটা মেনে নেবে না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী।
যদিও কলকাতা পুলিশের সেন্ট্রাল ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার ইয়েলওয়াড শ্রীকান্ত জগন্নাথরাও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেন, সকলেরই প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে, তবে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে দেওয়া হবে না। পরিস্থিতি কখনওই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি এবং যাবেও না।
উল্লেখ্য, পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে বলপ্রয়োগ করতে হয়েছে এবং দুই পক্ষকেই নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

