নয়াদিল্লি/ইটানগর, ২৮ মার্চ(আইএএনএস): অরুণাচল প্রদেশে ট্রান্স-অরুণাচল হাইওয়ে প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে ২.৩৭ কোটি টাকার সম্পত্তি সংযুক্ত (অ্যাটাচ) করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
ইডি জানায়, প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট, ২০০২-এর আওতায় ২৩ মার্চ জারি করা প্রভিশনাল অ্যাটাচমেন্ট অর্ডারের মাধ্যমে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংযুক্ত সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে কুরুঙ্গ কুমে জেলার নিয়াপিনের ডোলো গ্রামে প্রায় ৪৭,৩৫০ বর্গমিটার জমি (তাদার বাবিনের নামে) এবং কেয়ি পানিওর জেলার ইয়াচুলির জাথ গ্রামে একটি ঐতিহ্যবাহী বাড়ি (লিখা মাজের নামে)।
এই সম্পত্তিগুলি অবৈধভাবে ক্ষতিপূরণের টাকা আত্মসাৎ করে অর্জিত বলে অভিযোগ।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রান্স-অরুণাচল হাইওয়ে প্রকল্পের পোটিন-বোপি অংশে জমির মূল্য নির্ধারণ ও ক্ষতিপূরণ বণ্টনে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটির রিপোর্টে দেখা গেছে, প্রায় ৪৪.৯৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে, যা সরকারি কোষাগারের বড় ক্ষতি করেছে।
তদন্তে একাধিক সরকারি কর্মী ও ব্যক্তির জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। জিরোর তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার কেমো লোলেন, ডিএলআরএসও ভারত লিঙ্গু এবং জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার টোকো তাজে-সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া লিখা মাজ ও তাদার বাবিনের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে ক্ষতিপূরণের টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ইডির দাবি, তাঁরা এই অর্থ লেনদেন ও ব্যবহারে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
এর আগে ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি অরুণাচল প্রদেশ ও অসমে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ২.৪০ কোটি টাকা নগদ (লিখা মাজের কাছ থেকে) এবং ২২ লক্ষ টাকা (তাদার বাবিনের কাছ থেকে) উদ্ধার করা হয়। এছাড়া প্রায় ১.১৯ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছিল।
এই মামলায় এখনও পর্যন্ত মোট প্রায় ১০.১৩ কোটি টাকার সম্পত্তি সংযুক্ত, বাজেয়াপ্ত বা ফ্রিজ করা হয়েছে।
ইডি আগেই ২০২৪ সালের ১২ মার্চ ইউপিয়ার বিশেষ পিএমএলএ আদালতে একটি চার্জশিট দাখিল করেছিল। মামলার তদন্ত এখনও চলছে।
_____

