আগরতলা, ২৭ মার্চ : গোর্খাবস্তি নতুন পল্লী এলাকায় পারিবারিক কলহের চরম পরিণতিতে এক যুবক আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। সুশান্ত দে (২৮) নামের এই যুবকের মৃত্যুতে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এবং গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ছেলের মৃত্যুর জন্য মা-কে দায়ী করলেন শোকে বিহ্বল পিতা।
সুশান্ত দে তার নিজ বাড়িতেই আত্মহত্যা করে। তার বাবা সুজিত দে। জানা গেছে, দুই মাস আগে তার বিয়ে হয়েছিল, কিন্তু বৈবাহিক জীবনের শুরুতেই পারিবারিক অশান্তি তীব্র হয়ে ওঠে। সুশান্ত হাইকোর্টের অন্তর্গত একটি মেশিনে কাজ করতেন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থা সাধারণ ছিল। আত্মহত্যার আগে তিনি পরিবারের উদ্দেশ্যে একটি সুইসাইড নোট লিখে যান, যাতে পারিবারিক কলহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে এনসিসি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পুলিশ সুইসাইড নোটটি জব্দ করে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করছে এবং পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ নিচ্ছে। কোনো সন্দেহজনক কিছু না পাওয়া পর্যন্ত এটিকে পুরোপুরি আত্মহত্যা বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গোর্খা বস্তি নতুন পল্লীতে সকলে শোকাহত। প্রতিবেশীরা জানান, সুশান্ত ছিলেন শান্তস্বভাবের। কিন্তু পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝগড়া চলছিল। এই ঘটনা এলাকায় যুবকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়িয়েছে। স্থানীয় নেতারা পরিবারের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এদিকে, ছেলের মৃত্যুর জন্য মা-কে দায়ী করেছেন হতভাগ্য পিতা। সুশান্তের পিতা সুজিত বাবু আক্ষেপ করে বলেন, মা-র সাথে তাঁর প্রায়ই অশান্তি হতো। ফলে, ঝগড়ার পর ছেলের উপর অভিমান করে মাঝে মধ্যে বাড়ি থেকে অন্যত্র চলে যেতেন তিনি। মা-র এই আচরণ মেনে নিতে পারছিল না সুশান্ত। অবশেষে আজ এই চরম পদক্ষেপ নিল। মৃতের পিতা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়েও বাড়ি আসেননি তাঁর মা। মানুষ এতটা পাষাণ কিভাবে হতে পারেন, বুক চাপরে বলছিলেন তিনি।

