বুথে বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি বামফ্রন্টের, অবাধ ভোট নিয়ে উদ্বেগ

আগরতলা, ২৪ মার্চ: গত ২০১৮ সালের আগে রাজ্যে ভোট মানেই ছিল উৎসবের পরিবেশ। কিন্তু তারপর থেকে সেই পরিস্থিতি আর দেখা যাচ্ছে না। এডিসি ও উপনির্বাচনকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তাই বুথে বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বামফ্রন্ট।

সাংবাদিক সম্মেলনে বামফ্রন্টের আহ্বায়ক মানিক দে বলেন, এবারের নির্বাচন এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। বিরোধী দলগুলির উপর হামলার অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন জায়গায়। এই পরিস্থিতিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হওয়ার পরিবেশ নেই। তিনি দাবি করেন, প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নিয়মিত টহলদারি নিশ্চিত করতে হবে।

মানিক দে আরও জানান, নির্বাচনকে নিরপেক্ষ করতে বুথে ওয়েবকাস্টিং ও স্ক্যানার ব্যবস্থার চালু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সমস্ত রাজনৈতিক দলের জন্য সমানভাবে প্রচারের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি। কিছু এলাকায় বিরোধী দলের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও কমিশনের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।

বাম নেতৃত্বের তরফে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী (পিএসও) দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে পোলিং এজেন্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতে তারা নির্বিঘ্নে বুথে যেতে, থাকতে এবং দায়িত্ব পালন করতে পারেন—সেই ব্যবস্থাও করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এসডিপিওদের নির্দেশ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে, যাতে রাজনৈতিক দলগুলি নির্ধারিত এলাকায় বাধাহীনভাবে কর্মসূচি করতে পারে।

সিপিআই রাজ্য সম্পাদক মিলন বৈদ্য বলেন, মানুষ যেন উৎসবের পরিবেশে ভোট দিতে পারেন, সেটাই আমরা চাই। পুলিশকে দর্শকের ভূমিকায় না থেকে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি টাকার খেলা বন্ধ করাও জরুরি।

সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নেই তারা এই দাবিগুলি উত্থাপন করেছেন। ২০১৮ সালের আগে রাজ্যে ভোট মানেই ছিল উৎসবের পরিবেশ। কিন্তু তার পর থেকে সেই পরিস্থিতি আর দেখা যাচ্ছে না। এবারের নির্বাচনকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, বলেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, চলমান বিধানসভা অধিবেশনে বিরোধী দলনেতা অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের জন্য যে আবেদন জানিয়েছিলেন, তা শাসকদল গুরুত্ব দেয়নি। এমনকি অধ্যক্ষও এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেননি বলে দাবি করেন তিনি। এই বিষয়েও নির্বাচন কমিশনের কাছে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আরএসপি রাজ্য সম্পাদক দীপক দেব এবং ফরোয়ার্ড ব্লকের রাজ্য নেতা রঘুনাথ সরকারসহ বামফ্রন্টের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা। বাম নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচনকে ঘিরে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে।

Leave a Reply