বিশালগড়, ২০ মার্চ : জাতীয় সড়কের ধারে দিবারাত্র বাইক ও গাড়ি রাখাকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়েছে বিশ্রামগঞ্জের লুনথাইছড়া পাথালিয়া ঘাট এলাকায়। অভিযোগের তীর রাজ্যের গর্ব বলে পরিচিত টি এস আর বাহিনীর ১১ নম্বর ব্যাটেলিয়ানের হেডকোয়ার্টারের দিকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৮ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে অবস্থিত এই হেডকোয়ার্টারের সামনে প্রতিদিনই বাহিনীর বিভিন্ন স্তরের অফিসার ও কর্মীরা নিজেদের বাইক ও গাড়ি রেখে ডিউটিতে যান। শিফটভিত্তিক ডিউটি হওয়ায় সারাদিন ও সারারাত ধরে রাস্তার ধারে সারি সারি যানবাহন পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিকেলের দিকে দৃশ্যটি অনেকটা বাজার দিনের মতো হয়ে ওঠে বলে জানান স্থানীয়রা।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এইভাবে রাস্তার পাশে গাড়ি ফেলে রাখার ফলে চুরির আশঙ্কা বেড়ে যাচ্ছে। অতীতে এই স্থান থেকেই বাহিনীর অন্তত দুটি বাইক চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে। সেই ঘটনার পর পুলিশি তৎপরতায় গ্রামবাসীদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন টি এস আর কর্মী জানান, তারাও এই পরিস্থিতিতে অসন্তুষ্ট। তাদের বক্তব্য, অফিস কমপ্লেক্সের ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও বাইক ও গাড়ি ঢোকাতে দেওয়া হয় না। ফলে বাইরে রেখে ডিউটি করতে গিয়ে সবসময় চুরির ভয় কাজ করে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কিছু কর্মী বাধ্য হয়ে আশপাশের বাড়িতে গাড়ি রেখে ডিউটিতে যান। তবুও অধিকাংশ যানবাহন জাতীয় সড়কের পাশেই পড়ে থাকে, যা এলাকায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রশ্ন তুলছে।
এ বিষয়ে হেডকোয়ার্টারের মূল ফটকে দায়িত্বে থাকা সেন্ট্রি জানান, নির্দেশ অনুযায়ী বাইক ও গাড়ি ভেতরে নেওয়া যাবে না, বাইরে রাখতে হবে। তবে কেন এমন নির্দেশ, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
গ্রামবাসীরা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বাহিনীর শীর্ষ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হোক। তাদের আশঙ্কা, আবার যদি চুরির ঘটনা ঘটে, তাহলে অযথা গ্রামের সুনাম ক্ষুণ্ণ হবে এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হবে।
এদিকে, এলাকার এক জনপ্রতিনিধিও নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এখন নজর রয়েছে টি এস আর ১১ নম্বর ব্যাটেলিয়নের কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে তার দিকেই।

