নয়াদিল্লি, ১৯ মার্চ: চৈত্র নবরাত্রির প্রথম দিনে বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে বিভিন্ন মন্দিরে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেল। এ দিন দেবী দুর্গার প্রথম রূপ মা শৈলপুত্রী-র আরাধনার মধ্য দিয়ে শুরু হল নয়দিনের এই উৎসব।
চৈত্র নবরাত্রি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দেবী দুর্গার ন’টি রূপের পুজোর এই উৎসবের মধ্য দিয়েই হিন্দু চান্দ্র নববর্ষেরও সূচনা হয়। এই উৎসবের সমাপ্তি হবে রামনবমী-তে।
বারাণসীর দুর্গাকুণ্ড এলাকায় সকাল থেকেই মন্দিরে মন্দিরে ছিল ভক্তদের ভিড়। সেখানে মাতা শৈলপুত্রী এবং মাতা কুষ্মাণ্ডা-র আরাধনায় অংশ নেন অসংখ্য পুণ্যার্থী।
এক ভক্ত জানান, ভোর ৩টে থেকেই মন্দিরে লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন মানুষ। আর এক ভক্তের কথায়, এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হলেও মন্দিরে প্রবেশের পর এক অন্যরকম আধ্যাত্মিক অনুভূতি হয়।
মহারাষ্ট্রের বিরারে বিখ্যাত জীবদানি দেবী মন্দিরেও এ দিন ছিল ব্যাপক ভিড়। ভক্তদের ভিড় সামলাতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।
মন্দিরের প্রধান পুরোহিত প্রমোদ রাসাল বলেন, গুড়ি পাড়োয়া থেকে রামনবমী পর্যন্ত এই নয় দিন ধরে উৎসব চলে এবং বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত এখানে মানত পূরণ করতে আসেন। মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে ভক্তদের জন্য চা, জল-সহ নানা পরিষেবারও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সিঁড়ি ভেঙে উঠতে গিয়ে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তারও দেখভাল করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতেও চৈত্র শুক্ল প্রতিপদা এবং গুড়ি পাড়োয়া উপলক্ষে ভোর থেকে মহাকালেশ্বর মন্দিরে পুণ্যার্থীদের ভিড় দেখা যায়। ভক্তরা পুজো দিয়ে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।
দেওয়াসের এক পুরোহিত জানান, নবরাত্রির প্রথম দিনে দেবী শৈলপুত্রীকে দিব্য রূপে দর্শন করানো হচ্ছে। প্রতি বছরই এই সময়ে বিপুল সংখ্যক ভক্ত সেখানে আসেন এবং গভীর ভক্তিভাব নিয়ে পুজো দেন।
মধ্যপ্রদেশের আগর মালওয়া জেলার নলখেড়ার বিখ্যাত মা বগলামুখী মন্দিরেও প্রথম দিনেই ভক্তদের সমাগম হয়। এক ভক্ত জানান, তাঁরা আগের রাতেই মন্দিরে পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং প্রতি বছরই সেখানে এসে হোম-যজ্ঞে অংশ নেন, যা তাঁদের মানসিক শান্তি দেয়।
দাতিয়ায় প্রসিদ্ধ তান্ত্রিক শক্তিপীঠ শ্রী পীতাম্বরা পীঠেও ভক্তদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। একইভাবে ম্যাহার জেলার এক মন্দিরের পুরোহিত বলেন, নবরাত্রিতে মানুষ দেবীর আশীর্বাদ লাভ এবং মনস্কামনা পূরণের উদ্দেশ্যে বিশেষ পুজো-অর্চনা করেন।
এক ভক্তের কথায়, নবরাত্রির সময়ে সজ্জিত মা শারদা-র রূপ অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। দেবীর দর্শনের পর ভক্তদের মনে গভীর তৃপ্তি ও গর্বের অনুভূতি জন্মায়।
পাঞ্জাবেও চৈত্র নবরাত্রি উপলক্ষে ভক্তদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। পটিয়ালার বিভিন্ন মন্দিরে এ দিন পুজো দিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বহু মানুষকে।
অমৃতসরের দুর্গিয়ানা মন্দিরের এক পুরোহিত জানান, চৈত্র নবরাত্রি বসন্তের আগমনবার্তা বহন করে এবং সনাতন সংস্কৃতিতে হিন্দু নববর্ষেরও সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়। পুরাণ মতে, এই দিনেই ব্রহ্মা সৃষ্টির সূচনা করেছিলেন, তাই এই দিন থেকে নতুন বছরের সূচনা এবং মাতৃআরাধনার নবপর্ব শুরু হয়।
এ ছাড়াও হিমাচল প্রদেশের বিলাসপুর এবং বিহারের পাটনাতেও ভক্তদের মন্দিরে গিয়ে মা শৈলপুত্রী-র আরাধনা করতে দেখা যায়।

