আগরতলা, ১৮ মার্চ: সমগ্র শিক্ষা অভিযান (এসএসএ) এবং অন্যান্য চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদের নিয়মিতকরণের দীর্ঘদিনের দাবি বুধবার ত্রিপুরা বিধানসভায় জোরালোভাবে উত্থাপিত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চাকরির নিরাপত্তা ছাড়াই কাজ করার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিধায়করা।
আজ বাজেট অধিবেশনে বিষয়টি উত্থাপন করেন পল ডাংশু। তিনি জানান, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেও এসএসএ শিক্ষকরা এখনও চুক্তিভিত্তিক অবস্থায় রয়েছেন, যদিও তারা উচ্চ আদালত থেকে অনুকূল রায় পেয়েছেন। একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি ভোকেশনাল শিক্ষকসহ অন্যান্য চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকরাও।
তিনি আরও বলেন, এসএসএ শিক্ষকরা আরটিই আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করেছেন এবং স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে ডি.এল.এড সম্পন্ন করেছেন। পাঠদানের পাশাপাশি বুথ-লেভেল দায়িত্ব, মিড-ডে মিল পরিচালনা এবং বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
পল ডাংশু রাজ্য সরকারকে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা বিশেষ অনুমতি পিটিশন (এসএলপি) প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। তার মতে, এতে রাজ্যের আর্থিক চাপ কমবে। তিনি বলেন, এসএলপি প্রত্যাহার করা হলে শিক্ষকদের বেতনের মাত্র ১০ শতাংশ রাজ্যকে বহন করতে হবে, বাকিটা কেন্দ্র সরকার দেবে।
এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, ২০০-রও বেশি শিক্ষক চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন, কিন্তু তাদের পরিবারের জন্য পেনশন বা ‘ডাই-ইন-হারনেস’ সুবিধা নেই। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সকল চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকের জন্য সম্মানজনক বেতন ও স্থায়ী কাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানান তিনি।
এই দাবিকে সমর্থন করেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। তিনি একে অপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বলে উল্লেখ করেন। অসমসহ কয়েকটি রাজ্যে এসএসএ শিক্ষকদের পূর্ণ সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান এবং বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বলেন, বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আইন দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও তিনি জানান।

