ত্রিপুরায় ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত ১,২৪৫ জঙ্গি আত্মসমর্পণ করেছে : মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১৭ মার্চ: ২০২৩ সালের ১ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত ত্রিপুরায় বিভিন্ন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের মোট ১,২৪৫ জন সদস্য নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে মূলস্রোতে ফিরে এসেছে। ত্রিপুরা বিধানসভায় স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা লিখিত জবাবে এই তথ্য জানান।

লিখিত উত্তরে আরও বলা হয়, বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী-র উত্থাপিত প্রশ্নে নির্ধারিত সময়সীমার পর রাজ্যে নতুন করে জঙ্গি কার্যকলাপের কোনও ঘটনা সামনে আসেনি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সদস্য এসেছে ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অব ত্রিপুরা (বিস্ব মোহন গোষ্ঠী) থেকে। এই গোষ্ঠীর ৪১৭ জন জঙ্গি, যার মধ্যে স্বঘোষিত প্রধান বিস্ব মোহন দেববর্মাও রয়েছেন, অস্ত্র সমর্পণ করেন। এছাড়া এনএলএফটি (পরিমল দেববর্মা গোষ্ঠী) থেকে ৩৯৪ জন, এনএলএফটি (ওআরআই গোষ্ঠী) থেকে ২২৩ জন এবং অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্স (এটিটিএফ) থেকে ২২০ জন জঙ্গি আত্মসমর্পণ করেছে।

আত্মসমর্পণের সময় মোট ১৪৭টি অস্ত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৯৩টি দেশীয় বন্দুক, ১৩টি একে সিরিজের রাইফেল, ২টি কারবাইন, ৬টি .৩০৩ রাইফেল, ৪টি চীনা রাইফেল, ১টি চীনা পিস্তল, ১টি সিএম স্টেন গান, ৮টি পিস্তল, ৪টি রিভলভার, ৮টি সিঙ্গেল ব্যারেল মেটাল গান, ১টি বোটাম্যাক্স, ৪টি চীনা গ্রেনেড এবং ২টি এয়ার গান।

বিধানসভায় দেওয়া উত্তরে জানানো হয়েছে, পুনর্বাসন চুক্তি অনুযায়ী এনএলএফটি ও এটিটিএফ-এর সকল সদস্যকে অস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম জমা দিতে হবে, সহিংসতা ত্যাগ করতে হবে এবং গোপন কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকতে হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর কোনও অস্ত্র রাখা হলে তা বেআইনি হিসেবে গণ্য হবে।

পুনর্বাসন প্যাকেজের আওতায় প্রত্যেক যাচাইকৃত আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিকে তিন বছরের জন্য ৪ লক্ষ টাকার স্থায়ী আমানত এবং তিন বছর ধরে প্রতি মাসে ৬,০০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, কেন্দ্র সরকার রাজ্যের উপজাতি উন্নয়নের জন্য চার বছরে ২৫০ কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ বিবেচনা করতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

Leave a Reply