নয়াদিল্লি, ১৪ মার্চ: বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতার মধ্যেও ভারতে পেট্রোলের দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি করল বিজেপি। শনিবার দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৯৪.৭৭ টাকাতেই স্থির রয়েছে।
বিজেপির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত ঘিরে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে সামলানো সম্ভব হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ করা এক পোস্টে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি বলেন, “বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট সত্ত্বেও ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ভারতে পেট্রোলের দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। জি–২০ দেশগুলির মধ্যে একমাত্র ভারতেই এই স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।”
বিরোধীদের কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধী সরকারের এই সাফল্য মেনে নিতে পারছে না। তাঁর কথায়, “প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারত বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও সাধারণ মানুষের উপর সবচেয়ে কম প্রভাব ফেলেই পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে—এই বিষয়টি কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধী মেনে নিতে পারছে না।”
ভান্ডারি এক তুলনামূলক তথ্যও প্রকাশ করেন। সেই তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম প্রায় ২২ শতাংশ, চীনে ১১ শতাংশ, জার্মানিতে ১৫ শতাংশ এবং জাপানে প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছে।
উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হন বলে খবর। এর জেরে বৈশ্বিক তেল বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে।
বিশেষত হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিশ্বের মোট দৈনিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সংঘাতের জেরে ওই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
ইরান ওই এলাকায় জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করার পাশাপাশি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও জ্বালানি অবকাঠামোতেও হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক ও কুয়েতের মতো তেল উৎপাদক দেশগুলির উৎপাদন ও রপ্তানিতেও প্রভাব পড়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। শুক্রবার একটি এলপিজি ট্যাঙ্কার ওই প্রণালী পেরিয়ে ভারতে পৌঁছেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারত ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও জোরদার হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে একাধিকবার ফোনে আলোচনা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও ফোনে কথা বলে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী এক্স-এ করা পোস্টে সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
তিনি আরও জানান, বৈশ্বিক বাণিজ্য পথ দিয়ে পণ্য ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ভারতের অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।

