২০২৮-এ ত্রিপুরায় তিপ্রাসা মুখ্যমন্ত্রীর লক্ষ্য তিপ্রা মথার: প্রদ্যোত

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১১ মার্চ: তিপ্রাসা জনগণের ঐক্যবদ্ধ সমর্থন থাকলে ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর আগরতলা দখল করে তিপ্রাসা সম্প্রদায়ের একজনকে মুখ্যমন্ত্রী করা সম্ভব। বুধবার গোমতী জেলার কিল্লায় আয়োজিত দলীয় জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মন।

জনসভায় তিনি খুমুলুং দখলের দাবি নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টিকে কটাক্ষ করেন। প্রদ্যোত কিশোরের দাবি, আসন্ন নির্বাচনে সেখানে বিজেপিকে পরাজয়ের মুখ দেখতে হবে। তিনি বলেন, যদি বিজেপি নির্বাচনে পরাজিত হয়, তাহলে জনজাতিদের সমর্থন নিয়ে আমরা আগরতলা জয় করব এবং ২০২৮ সালে তিপ্রাসা সমাজ থেকে একজন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন।

তিনি দাবি করেন, এই নির্বাচন মূলত আদিবাসীদের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে এক বড় রাজনৈতিক লড়াই, যেখানে একদিকে রয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যদিকে রয়েছেন আদিবাসী সমাজের অধিকারের পক্ষে আন্দোলনরত নেতৃত্ব। জনগণের ভোটই নির্ধারণ করবে এই লড়াইয়ের ফলাফল। তাঁর কথায়, আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল অনেকটাই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে ত্রিপুরায় তিপ্রাসা সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা হবে কিনা। যদিও এখনও নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি।

প্রদ্যোত কিশোর অতীতের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ত্রিপুরায় আগে আদিবাসী সমাজের একজন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন দশরথ দেবের কথা, যিনি ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

এছাড়াও তিনি বিজেপির “সবকা সাথ, সবকা বিকাশ” স্লোগানের সমালোচনা করে বলেন, বহু বছর ধরে ভিলেজ কমিটির নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। ফলে উন্নয়ন সাধারনের ধারে কাছেও পৌঁছাচ্ছে না। ফলে সরকারের উন্নয়ন সংক্রান্ত বক্তব্যে সাধারণ মানুষের আস্থা কমছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, যদি বিধানসভার অধ্যক্ষ পদে বিজেপির বিধায়ক রামপদ জমাতিয়াকে প্রার্থী করা হয়, তাহলে তিপ্রা মথা সমর্থন জানাতে প্রস্তুত। তিপ্রাসা সমাজের স্বার্থে অতীতেও  বিভিন্ন ক্ষেত্রে দল সমর্থন জানিয়েছে আগামীদেও জানাবে বলে দাবি তাঁর।

জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আরও অভিযোগ করেন, আসন্ন এডিসি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে পারে। তার দাবি, নির্বাচনে জয়লাভের লক্ষ্যে দরিদ্র ও সাধারণ আদিবাসী ভোটারদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে। বিশেষ করে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা করা হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

প্রদ্যোত কিশোর বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই দেখা যাচ্ছে নির্বাচনের সময় নানা প্রতিশ্রুতি ও প্রলোভনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়। কিন্তু এভাবে সাময়িক সুবিধা দেখিয়ে মানুষের ভোট আদায় করা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য শুভ নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, আদিবাসী সমাজের দীর্ঘদিনের অধিকার, উন্নয়ন এবং স্বার্থের প্রশ্নে মানুষকে সচেতন হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তিনি সমাবেশে উপস্থিত সমর্থক ও ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচনের সময় যদি কেউ আপনাদের টাকা বা অন্য কোনো প্রলোভন দেয়, তা আপনারা নিতে পারেন। কিন্তু ভোট দেওয়ার সময় নিজেদের বিবেক অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিন এবং তিপ্রাসা মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার জন্য যে দল লড়াই করছে, তাকেই সমর্থন করুন।

তার কথায়, সাময়িক আর্থিক প্রলোভনের চেয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ, অধিকার এবং সমাজের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়াই হওয়া উচিত। তাই তিনি সকলকে সচেতন থেকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার আহ্বান জানান।

Leave a Reply