লোকসভায় তর্ক-বিতর্কে উত্তেজনা, ‘বিরোধীদের সবচেয়ে বেশি বাধা দেন রিজিজু’ — গৌরব গগৈ

নয়াদিল্লি, ১০ মার্চ : লোকসভায় স্পিকারকে অপসারণের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় তীব্র বাকবিতণ্ডা দেখা গেল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিরোধী সাংসদের মধ্যে। কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ মন্তব্য করেন, ভবিষ্যতে সংসদীয় নথি নিয়ে গবেষণা হলে পরিসংখ্যানই দেখাবে যে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে কিরেন রিজিজু বিরোধীদের সবচেয়ে বেশি বাধা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার লোকসভা-য় স্পিকারকে অপসারণের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় এই মন্তব্য করেন গগৈ। প্রস্তাবটি বর্তমান স্পিকার ওম বিড়লা-র বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে গগৈ সংসদের নিয়ম ও সাংবিধানিক দিক তুলে ধরে বলেন, স্পিকারকে অপসারণের প্রস্তাব বিবেচনার সময় স্পিকার নিজে অধিবেশন পরিচালনা করতে পারেন না। সেই প্রসঙ্গেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, স্পিকার যে প্যানেল অব চেয়ারপার্সন নিয়োগ করেন, সেখান থেকে কীভাবে ঠিক করা হল যে জগদম্বিকা পাল ওই আলোচনার সময় সভা পরিচালনা করবেন।

এই সময় রিজিজু হস্তক্ষেপ করে বলেন, স্পিকারের অপসারণের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হলে প্যানেল অব চেয়ারপার্সনের কোনও সদস্য লোকসভা পরিচালনা করতে পারেন এবং সেই কারণেই জগদম্বিকা পাল অধিবেশন পরিচালনা করছেন।

রিজিজুর এই মন্তব্যের জবাবে গগৈ কটাক্ষ করে বলেন, ভবিষ্যতে সংসদীয় রেকর্ড নিয়ে গবেষণা হলে দেখা যাবে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে রিজিজুই বিরোধীদের সবচেয়ে বেশি বাধা দিয়েছেন।

এই বিতর্কে হস্তক্ষেপ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, “আমি আপনার সঙ্গে একমত, সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে কিরেন রিজিজু সবচেয়ে বেশি হস্তক্ষেপ করেছেন। তবে এত দায়িত্বজ্ঞানহীন বিরোধী দলও আমরা আগে দেখিনি।”

গগৈ আরও বলেন, স্পিকার কর্তৃক নির্বাচিত প্যানেলের সদস্য যদি স্পিকারের বিরুদ্ধেই আনা প্রস্তাবের আলোচনায় সভা পরিচালনা করেন, তবে তা সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী হতে পারে।

তিনি দাবি করেন, অতীতে লোকসভা স্পিকারকে অপসারণের প্রস্তাব যখনই আনা হয়েছে, তখন সংসদে ডেপুটি স্পিকার ছিলেন। কিন্তু বর্তমান সরকার এখনও ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ করেনি।

গগৈ স্পষ্ট করে দেন, বিরোধীদের ব্যক্তিগতভাবে স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে কোনও সমস্যা নেই। তাঁদের আপত্তি মূলত সংসদ পরিচালনার ধরন ও চেয়ারের কার্যপ্রণালী নিয়ে।

তিনি আরও বলেন, বিরোধী জোটের প্রায় ২০০ জন সদস্য লোকসভায় থাকলেও এখনও ডেপুটি স্পিকারের পদ খালি রয়েছে, এবং এই পরিস্থিতিতে সংসদ কীভাবে চলছে তা দেশের মানুষের জানা উচিত।

Leave a Reply