বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহিতা ও অঙ্গনওয়াড়ি সংস্কারের উপর জোর রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেলের

সন্দীপ বিশ্বাস
লখনউ সফররত, ৬ মার্চ : উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল বিশ্ববিদ্যালয় ও সামাজিক কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সরাসরি তদারকির গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন। নিজের কাজের ধরণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য তিনি নিজে দীর্ঘ সময় ধরে পর্যালোচনা বৈঠক করতেন।

রাজ্যপাল বলেন, করোনা পরিস্থিতির সময় সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও অর্থ আধিকারিকসহ পাঁচজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে নিয়ে বৈঠক হতো। সেখানে একে একে প্রতিটি বিষয়ে আলোচনা করা হতো। অসম্পূর্ণ নির্মাণকাজ, প্রাপ্ত অর্থের ব্যবহার এবং কাজের বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করতে হত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত অবস্থা স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব হতো।

তিনি জানান, কোনো সমস্যার ক্ষেত্রে দ্রুত সংশোধনমূলক নির্দেশ দেওয়া হতো। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, পাঁচ বছর ধরে যদি ২৫টি ভবনের নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ পড়ে থাকে, তাহলে সেদিনই সেই সংক্রান্ত নথি চেয়ে পাঠিয়ে জনপথ বিভাগে পাঠানো হতো এবং এক মাসের মধ্যে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে রিপোর্ট দিতে বলা হত। এই ধরনের পর্যালোচনা বৈঠক টানা ৪৫ দিন পর্যন্ত চলেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচির প্রসঙ্গে রাজ্যপাল আঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির উন্নয়নে তাঁর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর উপর এই দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। গুজরাটে তিনি অঙ্গনওয়াড়ি নিয়ে বিস্তর কাজ করেছিলেন, কিন্তু উত্তরপ্রদেশে অনেকেই তখন অঙ্গনওয়াড়ি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।

এই পরিস্থিতিতে তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ডেকে বৈঠক, অনলাইন পর্যালোচনা চালু এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পরিকাঠামো ও প্রশিক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করেন। তাঁর দাবি, এক বছরের মধ্যেই একটি সুসংগঠিত কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।

তিনি স্বীকার করেন, এই কাজ সহজ ছিল না। অনেকেই কঠোর শৃঙ্খলার সঙ্গে কাজ করতে অভ্যস্ত ছিলেন না। তবে ফলাফল না এলে স্বীকৃতি মেলে না এবং সাফল্যের জন্য অধ্যবসায় অপরিহার্য বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রাজ্যপাল শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার গুরুত্বও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, সমস্যার সমাধান করতে হলে প্রথমে সেগুলি জানতে হবে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যা ও যাতায়াতের অসুবিধার মতো বিষয় জানার উপর তিনি গুরুত্ব দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতির প্রসঙ্গেও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, প্রতি বছর নয়, পাঁচ বছর অন্তর স্বীকৃতি দেওয়াই যুক্তিযুক্ত। যদি শিক্ষার ফলাফল ও পরিকাঠামো ভালো থাকে, তাহলে প্রতি বছর একই প্রক্রিয়া পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন নেই। এই বিষয়ে দিল্লিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং সারা ভারত কারিগরি শিক্ষা পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করতেও হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

রাজ্যপালের বক্তব্যে প্রশাসনিক কঠোরতা ও তৃণমূল স্তরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সমন্বয়ে উচ্চশিক্ষা এবং শিশু কল্যাণ ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রচেষ্টার প্রতিফলন দেখা গেছে।

Leave a Reply