ইসলামাবাদ, ৫ মার্চ (আইএএনএস): ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর প্রতিবাদে পাকিস্তানে চলা বিক্ষোভের জেরে করাচিতে টানা চতুর্থ দিন বন্ধ রইল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেড ও কনটেনার বসানো হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভের সময় সহিংসতায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন।
যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্রাফিক পুলিশ শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যারিকেড বসিয়েছে। পিআইডিসি ব্রিজে কনটেনার রাখা হয়েছে, পাশাপাশি জিন্নাহ সেতু এবং মাই কলাচি রোড-এর দিকে যাওয়া রাস্তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও নৌকা অববাহিকা থেকে মাই কলাচি রোড পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষ পরিচয়পত্র দেখিয়ে প্রবেশ বা বের হওয়ার অনুমতি পাবেন।
খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। করাচিতে বিক্ষোভকারীরা করাচির মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট-এর বাইরের প্রাচীর ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে এবং সম্পত্তির ক্ষতি করে বলে অভিযোগ। ওই সময় গুলিচালনায় অন্তত ১১ জন নিহত হন।
এদিকে লাহোরে শতাধিক বিক্ষোভকারী মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে জড়ো হলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুড়ে ভিড় ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। ইসলামাবাদেও বিক্ষোভকারীরা মার্কিন দূতাবাসের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী রাস্তা অবরোধ করে দেয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় ৪ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানে তাদের কূটনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা জারি করে। মার্কিন সরকার লাহোর ও করাচিতে তাদের কনস্যুলেট থেকে অপ্রয়োজনীয় সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এক বিবৃতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ইসলামাবাদ জানিয়েছে, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাস এবং লাহোর ও করাচির কনস্যুলেটে ৬ মার্চ পর্যন্ত সব ভিসা সাক্ষাৎকার বাতিল করা হয়েছে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানের বড় শহরগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।

