কলকাতা, ৫ মার্চ (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গে বৃহস্পতিবার এক বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) এবং এক বৃদ্ধের মৃত্যু ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মৃতদের পরিবারের অভিযোগ, ভোটার তালিকার
বিশেষ নিবিড় পর্যবেক্ষন(এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে অতিরিক্ত কাজের চাপ ও মানসিক উদ্বেগের জেরেই এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মৃত বিএলওর নাম সুভিমল কারক (৫৮)। তিনি শালবনি থানার হাতিমারি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। সুভিমল কারক স্থানীয় সাবলি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন এবং একই সঙ্গে হাতিমারি বুথের বিএলও হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পরিবারের দাবি, বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে শুরু থেকেই তিনি এসআইআর সংক্রান্ত দায়িত্ব নিতে অনিচ্ছুক ছিলেন। তবুও তাঁকে বিএলও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই কাজের চাপের কারণে তিনি মানসিকভাবে চাপে ছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকালে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা বিকেলে মৃতের বাড়িতে যান। তিনি বলেন, এটি নির্বাচন কমিশন নয়, অত্যাচার কমিশন। মানুষ এই অত্যাচার ভুলবে না। এই ঘটনার জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী।
মৃতের মেয়ে সুচন্দ্রিমা কারক সাংবাদিকদের জানান, তাঁর বাবা দীর্ঘদিন ধরেই প্রচণ্ড চাপের মধ্যে ছিলেন। সারাদিন কাজ করতে হতো, রাত পর্যন্তও কাজ করতে হতো। বাবার আগেই হার্টের সমস্যা ছিল। তাই তিনি এই দায়িত্ব নিতে চাননি, বলেন তিনি।
এই ঘটনার পর বিএলওদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে পশ্চিম মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, কোনও মৃত্যুই কাম্য নয়। কিন্তু এখন কেউ মারা গেলেই তৃণমূল নির্বাচন কমিশনের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। এই নোংরা রাজনীতি বন্ধ হওয়া উচিত।
অন্যদিকে, নদিয়ার রানাঘাটে আরও এক বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। মৃতের নাম জয়দেব দত্ত (৬২)। পরিবারের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নাম না থাকায় তিনি ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, জয়দেব দত্তের কাছে তাঁর বাবার সম্পূর্ণ নথি ছিল না। শুনানির সময় তিনি নিজের কিছু নথি জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর নিজের নাম ‘বাদ পড়া’ তালিকায় দেখে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং বৃহস্পতিবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের দাবি।

