এসআইআর পরবর্তী পরিস্থিতি ও ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে দু’দিনের বৈঠকে ইসি

কলকাতা, ২ মার্চ (আইএএনএস): সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বিচারাধীন নথিভুক্ত ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে দু’দিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই সোমবার ও মঙ্গলবার এই বৈঠক হবে।

সোমবার সকাল ১১টা থেকে প্রথম পর্যায়ের বৈঠক শুরু হবে। ভার্চুয়াল এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ কুমার আগরওয়াল, অতিরিক্ত ও যুগ্ম সিইও, ডেপুটি সিইও, জেলাশাসকরা (যাঁরা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক হিসেবেও দায়িত্বে), এবং জেলা পুলিশ সুপাররা। ইসির শীর্ষ আধিকারিকরাও বৈঠকে যোগ দেবেন।

মঙ্গলবার দ্বিতীয় পর্যায়ের বৈঠকে দিল্লিতে ইসির শীর্ষ কর্তারা, রাজ্যের সিইও, রাজ্য নোডাল পুলিশ অফিসার (এসএনপিও), এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ও তদন্তকারী সংস্থার সমন্বয়কারী আধিকারিকরা ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন।

সিইও দফতরের এক সূত্রের দাবি, সোমবারের বৈঠকে ইতিমধ্যেই রাজ্যে মোতায়েন ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) বর্তমান অবস্থান ও ব্যবহার নিয়ে পর্যালোচনা হতে পারে। রবিবার থেকেই এই বাহিনী রাজ্যে মোতায়েন হয়েছে। এলাকায় ‘এরিয়া ডমিনেশন’ এবং সংশ্লিষ্ট ভৌগোলিক পরিবেশের সঙ্গে বাহিনীর মানিয়ে নেওয়ার অগ্রগতি সম্পর্কেও রিপোর্ট চাওয়া হতে পারে।

একই সঙ্গে ১০ মার্চ দ্বিতীয় দফায় আরও ২৪০ কোম্পানি সিএপিএফ মোতায়েনের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। পাশাপাশি ইসি-নিযুক্ত বিচারিক আধিকারিকদের মাধ্যমে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নথি সংক্রান্ত বিচারিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতিও খতিয়ে দেখা হবে বলে সূত্রের খবর।

মঙ্গলবারের বৈঠকে মূলত রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার উপায়, সিএপিএফের কার্যকর ব্যবহার, এবং অর্থ, মদ ও মাদক পাচার রুখতে গোয়েন্দা ও প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। আন্তর্জাতিক ও আন্তঃরাজ্য সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দিকেও বিশেষ নজর থাকবে।

তবে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা এবং আদর্শ আচরণবিধি জারির সময় নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে দোল উৎসবের (৪ মার্চ) পর মার্চের প্রথম সপ্তাহেই ভোটের দিন ঘোষণা করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ভোটারদের নথি সংক্রান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এখন মনে করা হচ্ছে, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে।

Leave a Reply