হায়দরাবাদ, ২৭ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য ৭৪৫ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে তেলেঙ্গানা সরকার। উপমুখ্যমন্ত্রী তথা অর্থমন্ত্রী মল্লু ভট্টি বিক্রমার্কার নির্দেশে শুক্রবার অর্থ দফতর এই অর্থ ছাড় করে।
টানা সপ্তম মাসের মতো সরকার বকেয়া মেটাতে অর্থ বরাদ্দ করল। কর্মী সংগঠনগুলিকে দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী, গত বছরের জুন মাস থেকে প্রতি মাসে ন্যূনতম ৭০০ কোটি টাকা বকেয়া বিল মেটাতে ছাড়া হচ্ছে। গত মাসে ৭২০ কোটি টাকা এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ৭১৩ কোটি টাকার বিল মেটানো হয়েছিল।
সরকার আগেই জানিয়েছিল, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে জমে থাকা বকেয়া পরিশোধে প্রতি মাসে অন্তত ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। ২০২৫ সালের জুন মাসের শেষে ১৮৩ কোটি টাকা ছাড়া হয়। এরপর আগস্ট মাস থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রতি মাসে ন্যূনতম ৭০০ কোটি টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।
এই বকেয়া বিলগুলির মধ্যে রয়েছে কর্মীদের গ্র্যাচুইটি, জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (জিপিএফ), অর্জিত ছুটি নগদায়ন এবং বিভিন্ন অগ্রিমের অর্থ।
চলতি বছরের জুনের প্রথম সপ্তাহে তেলেঙ্গানা মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নেয়, ১ জানুয়ারি ২০২৩ পর্যন্ত জমে থাকা কর্মীদের বকেয়া ২৮ মাসের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। সেই অনুযায়ী প্রতি মাসে অন্তত ৭০০ কোটি টাকা মঞ্জুরের অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। উপমুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভার উপকমিটির সঙ্গে কর্মী সংগঠনগুলির বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে ৫৭ দফা দাবিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল কর্মীরা।
এদিকে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে তেলেঙ্গানা মন্ত্রিসভা রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য দুর্ঘটনা বিমা ও ক্যাশলেস স্বাস্থ্য প্রকল্প অনুমোদন করেছে। বিমা প্রকল্পে কর্মীদের কোনও প্রিমিয়াম দিতে হবে না এবং সরকারের ওপরও অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়বে না বলে জানানো হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় থাকবেন ৫.১৯ লক্ষ নিয়মিত কর্মী ও ২.৩৮ লক্ষ পেনশনভোগী, মোট ৭.৫৭ লক্ষ উপভোক্তা।
ব্যাংকের মাধ্যমে কার্যকর হওয়া এই প্রকল্পে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হলে ১.২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। স্বাভাবিক মৃত্যু (৬০ বছর বয়স পর্যন্ত) হলে নিয়মিত সুবিধার পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে।
পাশাপাশি ক্যাশলেস এমপ্লয়ি হেলথ স্কিম (ইএইচএস) অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা, যা দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। এই প্রকল্পে ৩.৫৬ লক্ষ কর্মী, ২.৮৮ লক্ষ পেনশনভোগী এবং তাঁদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরা মিলিয়ে মোট ১৭.০৭ লক্ষ উপভোক্তা অন্তর্ভুক্ত হবেন। রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতাল এবং ৬৫২টি চিহ্নিত বেসরকারি হাসপাতালে সম্পূর্ণ ক্যাশলেস চিকিৎসা মিলবে। এর আওতায় ১,৯৯৮টি চিকিৎসা পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

