দিল্লি আবগারি মামলায় কেজরিওয়ালের অব্যাহতির পর সাক্ষাতের সম্ভাবনা, দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন

নয়াদিল্লি, ২৭ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): দিল্লি আবগারি নীতি মামলায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের অব্যাহতির রায় বিরোধী শিবিরে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। এর প্রভাব কেরলের রাজনীতিতেও পড়তে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, বিশেষ করে যখন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

সিপিআই(এম)-এর পলিটব্যুরো বৈঠকে যোগ দিতে বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। সূত্রের খবর, এই সফরেই তিনি কেজরিওয়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন। দুই নেতার মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বরাবরই সৌহার্দ্যপূর্ণ বলে জানা যায়।

২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলিকে আর্থিকভাবে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে বিজয়ন দিল্লিতে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন। তখন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কেজরিওয়াল তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই ঘটনাকে বিজেপি-বিরোধী আঞ্চলিক শক্তিগুলির মধ্যে বৃহত্তর সমন্বয়ের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছিল।

রাউজ অ্যাভিনিউ আদালতের রায়ে কেজরিওয়ালের অব্যাহতি বিরোধীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগকে জোরালো করেছে যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি বেছে বেছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের নিশানা করছে। আম আদমি এই রায়কে তাদের নেতার “দ্বিতীয় জন্ম” বলে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে ইন্ডিয়া জোটের কাঠামোর মধ্যে বিরোধী ঐক্য জোরদারের আলোচনা নতুন করে শুরু হয়েছে।

কেরলে শাসক বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সাম্প্রতিক পঞ্চায়েত ও স্থানীয় সংস্থা নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার পর ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ ইস্যুকে সামনে আনছে। বাম শিবিরের অভিযোগ, কেন্দ্রের সংস্থাগুলির তদন্ত সেই বৃহত্তর চিত্রের অংশ। এই প্রেক্ষাপটে বিজয়ন-কেজরিওয়াল বৈঠক রাজনৈতিক সংহতির বার্তা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন একটি বৈঠক হলে তা একাধিক উদ্দেশ্য পূরণ করবে। কেন্দ্রবিরোধী অবস্থান আরও স্পষ্ট করা, বিরোধী ঐক্যের বার্তা জোরদার করা এবং নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক আলোচনার দিক নির্ধারণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

আসন্ন নির্বাচনী লড়াইয়ের আগে এই সম্ভাব্য সাক্ষাৎ কেবল দিল্লির রাজনীতিতেই নয়, কেরলের প্রচারপর্বেও প্রতিধ্বনি তুলতে পারে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

Leave a Reply