কলকাতা, ২৭ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): নদিয়া জেলার কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের এক চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্রের পচাগলা দেহ হোস্টেল কক্ষ থেকে উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত ছাত্রের নাম পুলক হালদার। পরিবারের অভিযোগ, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং খুনের ঘটনা।
তদন্তকারী এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, শুক্রবার দেহের ময়নাতদন্ত হবে। রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মৃতের বাবা সুধাংশু হালদার দাবি করেন, তাঁর ছেলের দেহে একাধিক আঘাত ও কাটার চিহ্ন ছিল, যা খুনের সন্দেহ বাড়াচ্ছে। তাঁর কথায়, “এটা স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে না। ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই। ২০২৪ সালে কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এক জুনিয়র চিকিৎসকের নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার মতো এই মামলারও একই পরিণতি হোক, তা চাই না।”
পরিবারের আত্মীয় উত্তম মণ্ডল বলেন, পুলক মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের ছাত্র ছিল। তাঁরও দাবি, মুখ ও পেটের অংশে আঘাতের চিহ্ন দেখা গিয়েছে। ফলে মৃত্যুর আগে হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে মত তাঁর।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০ ফেব্রুয়ারি শেষবার পুলককে হোস্টেলের ক্যান্টিনে খাবার খেতে দেখা যায়। এরপর থেকে তাকে আর হোস্টেল চত্বরের বাইরে বা ভেতরে কেউ দেখেননি। ২৬ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার তাঁর কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করলে দরজায় সাড়া না পেয়ে তা ভেঙে ফেলা হয়। সেখানেই পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়।
পরিবারের দাবি, ২০ ফেব্রুয়ারিতেই শেষবার ফোনে কথা হয়েছিল পুলকের সঙ্গে, এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
পরিবার আরও অভিযোগ করেছে, ২০২৪ সালে আরজিকর মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালে জুনিয়র চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদ ঘিরে আন্দোলনের সময় পুলককে সহপাঠীদের একাংশের তরফে হেনস্তার মুখে পড়তে হয়েছিল। এছাড়া পড়াশোনা সংক্রান্ত কিছু সমস্যার কথাও সে জানিয়েছিল বলে পরিবারের দাবি। তবে এই অভিযোগগুলির কোনওটাই এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।

