জামিন পেলেও পুনরায় গ্রেফতারের নির্দেশ, বাংলাদেশের পুলিশকে তীব্র ভর্ৎসনা মানবাধিকার সংগঠনের

প্যারিস, ২৭ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পুনরায় গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশের রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন।

ফ্রান্সভিত্তিক সংগঠন জেএমবিএফ এক বিবৃতিতে জানায়, ২৪ ফেব্রুয়ারির ওই ‘বিশেষ নির্দেশ’-এ নাকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলা হয়েছে, আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেলেও আওয়ামী লীগ নেতাদের অন্য মামলায় পুনরায় গ্রেফতার দেখাতে। সংগঠনের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ বিচারিক আদেশকে কার্যত অকার্যকর করে দেওয়ার চেষ্টা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রকাশ্য অপব্যবহার।

সংগঠনের বক্তব্য, “আদালত জামিন দিলে প্রশাসনিক নির্দেশে পুনরায় গ্রেফতার করা সংবিধানপ্রদত্ত বিচার বিভাগের কর্তৃত্বকে খর্ব করে এবং আইনের শাসনের ভিত্তিকে দুর্বল করে। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল।”

তাদের মতে, বাংলাদেশের সংবিধান ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনি সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করে। আদালত জামিন দেওয়ার পর তথাকথিত ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানো ক্ষমতার বিভাজন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক ভারসাম্যের পরিপন্থী।

জেএমবিএফ সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের প্রক্রিয়া চলতে থাকলে দেশের আইনি কাঠামো কেবল নামমাত্র হয়ে পড়বে এবং আইনের শাসনের জায়গায় প্রশাসনিক ইচ্ছাই প্রাধান্য পাবে, যা যে কোনও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগজনক।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহানুর ইসলাম অভিযোগ করেন, (বিএনপি)-নেতৃত্বাধীন বর্তমান জোট সরকার পূর্ববর্তী অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের পথ অনুসরণ করে আইনের শাসন দুর্বল করছে। তাঁর দাবি, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে রাষ্ট্রযন্ত্রকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য সরাসরি হুমকি।

জেএমবিএফ অবিলম্বে ওই ‘বিশেষ নির্দেশ’ প্রত্যাহার, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের পূর্ণ নিশ্চয়তা দাবি করেছে। পাশাপাশি একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির সক্রিয় নজরদারির আহ্বান জানানো হয়েছে।

Leave a Reply