ঢাকা, ২৭ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): দেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার, হুমকি ও শারীরিক হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে আওয়ামী লীগ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই এই প্রবণতা বাড়ছে বলে দলটির দাবি।
দলটি জানায়, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার সতর্কবার্তা উঠে এসেছে। এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ উল্লেখ করে, ৫ আগস্ট ২০২৪-এ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় সাংবাদিকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও অনিশ্চয়তার চিত্র তুলে ধরেছিলেন। কয়েক মাস পর তাঁদের অনেকেই খবর পরিবেশনের বদলে নিজেরাই খবরের অংশ হয়ে পড়েছেন।
টিআইবি-এর একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে দলটি জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর পর্যন্ত অন্তত ১,০৭৩ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী হামলা, হুমকি, আটক, মামলা বা হয়রানির শিকার হয়েছেন। নথিভুক্ত ঘটনার সংখ্যা ৪৭৬।
২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের এক বিবৃতিতে নবগঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া “মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা” প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নুরুল কবির ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, এসব মামলা সাংবাদিকদের পেশাগত কর্মকাণ্ডে গুরুতর বাধা সৃষ্টি করছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের দাবি, বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সম্পাদকরা জানিয়েছেন যে হামলা ও ফৌজদারি মামলার জেরে সংবাদ প্রকাশের আগে আইনি পরিণতি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা নিতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আত্মনিয়ন্ত্রণ বা স্ব-নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা বেড়েছে। সাংবাদিকদের নিয়মিত আদালতে হাজিরা, আইনি লড়াইয়ের খরচ এবং পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
দলটির মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে স্বাধীন তথ্যপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে এবং জনসাধারণের নিরপেক্ষ সংবাদ পাওয়ার অধিকার সংকুচিত হবে। রাজনৈতিক পালাবদলের পরবর্তী সময়ে এই ঘটনাগুলির মোকাবিলা কীভাবে করা হয়, সেটিই গণতান্ত্রিক জবাবদিহি ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বড় পরীক্ষা হয়ে উঠবে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।

