জেএনইউ-তে সংঘর্ষ: এবিভিপি-র দাবি, বামপন্থী ছাত্রগোষ্ঠীর হামলা

নয়াদিল্লি, ২৩ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): রাজধানীর জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়-এ সোমবার ভোররাতে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির সঙ্গে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-র সদস্যদের সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়ায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে তথাকথিত জাতিবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের অভিযোগ তুলে বামপন্থী সংগঠনগুলি প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে জানা গিয়েছে। বাম সংগঠনগুলির দাবি, এবিভিপি সদস্যরা হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে এবিভিপি-র পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ আনা হয়েছে যে, তাদের কর্মীদের উপর হামলা ও হেনস্থা করা হয়েছে।

এবিভিপি-র এক ছাত্র, প্রতীক ভরদ্বাজ, আইএএনএস-কে জানান, “আমি কোন তলায় ছিলাম বুঝতে পারিনি। নিজেকে বাঁচাতে দৌড়ে একটি খোলা শৌচাগারে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিই। প্রায় আধঘণ্টা পর ১৫০ জনের মতো একটি দল সেখানে আসে। দরজা বন্ধ দেখে তারা ভাঙার চেষ্টা করে। দরজায় গর্ত করে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ধোঁয়া ও গুঁড়ো ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়। সেই সময় তোলা ছবিও আমার কাছে আছে।”

ঘটনার পটভূমি সম্পর্কে তিনি বলেন, “উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও নিয়ম নির্ধারণে সিপিও ম্যানুয়াল ব্যবহার করেন। এর আওতায় বামপন্থী ছাত্রদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, মোট পাঁচজনকে সীমাবদ্ধ করা হয়েছিল। সেই বিষয়টিকেই রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হয়েছে।”

আরও এক এবিভিপি ছাত্র বৈভব মীণা অভিযোগ করেন, “বামপন্থীদের একটি মিছিল হয়। মিছিলের পর প্রায় ৪০০ জনের একটি দল, যাদের অনেকের মুখ ঢাকা ছিল এবং হাতে লাঠি-রড ছিল, স্কুল এলাকায় ঢুকে পড়ে এবং ভবনগুলির দরজা বন্ধ করতে শুরু করে।”

জেএনইউ-তে এবিভিপি-র সম্পাদক প্রভীন কুমার পীযূষ দাবি করেন, “রাতে সাবরমতী টি-পয়েন্ট থেকে উপাচার্যের বাসভবন পর্যন্ত মিছিল ডাকা হয়। পরে ৪০০–৫০০ জন মুখোশধারী ব্যক্তি হকি স্টিক, রড, ব্যাটন, ছুরি ও পাথর নিয়ে স্কুল এলাকায় প্রবেশ করে। পড়ুয়ারা যখন রিডিং রুমে পড়াশোনা করছিল, তখন তাদের জোর করে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।”

ঘটনার পর কোনও বড় ধরনের আঘাতের খবর মেলেনি। দুই ছাত্র মেডিক্যাল লিভ সার্টিফিকেট (এমএলসি) নেওয়ার জন্য সরকারি হাসপাতালে যান। এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

প্রশাসনের তরফে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং কীভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply