রাঁচি, ২৩ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): ঝাড়খণ্ডের ৪৮টি নগর স্থানীয় সংস্থায় সোমবার ভোটগ্রহণ চলাকালীন রাজ্যপাল, সাংসদ ও রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন এবং সাধারণ মানুষকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গাঙ্গোয়ার রাঁচির অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসের একটি বুথে ভোট দেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, স্থানীয় সংস্থার নির্বাচন তৃণমূল স্তরের উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তিনি ভোটারদের নিজের অঞ্চল ও রাজ্যের কল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করার আহ্বান জানান এবং বলেন, ভোট দেওয়া প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।
গোদ্দা লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ নিশিকান্ত দুবে দেবঘর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এলাকায় পরিবার-সহ ভোট দেন। সামাজিক মাধ্যমে ছবি পোস্ট করে তিনি নাগরিকদের ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি ব্যালট পেপার ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ডিজিটাল যুগে এই পদ্ধতি উন্নয়নের গতি মন্থর করতে পারে। তবে বিজেপি-সমর্থিত প্রার্থীদের জয়ের বিষয়ে তিনি আশাবাদী।
হাজারিবাগের সাংসদ মনীশ জয়সওয়াল ভোট দিয়ে বলেন, এই নির্বাচন উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা ও স্বচ্ছতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বার্তা দেন— “আগে ভোট, পরে জলখাবার।”
মন্ত্রী সুধিব্য কুমার গিরিডিতে ভোট দেন। রাজ্যের কৃষি, পশুপালন ও সমবায় মন্ত্রী শিলপি নেহা তির্কি দাহিসোট বানহোড়ার সন্ত অজয় মিডল স্কুলে ভোট দেন। তাঁরা বলেন, ভোটাধিকার যেমন অধিকার, তেমনই দায়িত্বও। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তাঁরা। শিক্ষিত, অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার বার্তাও দেন।
এদিকে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও রাঁচির সাংসদ সঞ্জয় শেঠ ভোট দিয়ে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় চরম অব্যবস্থার অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, মেয়র ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদের জন্য আলাদা ব্যালট বাক্সের বদলে একটি বাক্স ব্যবহারের সিদ্ধান্ত ‘ষড়যন্ত্রের’ অংশ হতে পারে। তিনি মোটরসাইকেলে করে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে সাধারণ ভোটারের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন।
সকাল ৭টা থেকে কড়া নিরাপত্তায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। রাজ্যজুড়ে ৪,৩০৪টি বুথে সকাল থেকেই ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
মেয়র ও চেয়ারম্যান পদের জন্য ৫৬২ জনের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদের জন্য লড়ছেন ৫,৫৬২ জন প্রার্থী। ১৬টি পুরসংস্থার ৩৮টি ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। সব মিলিয়ে মোট ওয়ার্ডের সংখ্যা ১,০৮৭।
৮,৬৭৮টি ব্যালট বাক্সে প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে ভোটগণনা শুরু হবে।
মোট ৪৩,৩৩,৫৭৪ জন ভোটার ভোটদানের যোগ্য— যার মধ্যে ২২,০৭,২০৩ জন পুরুষ, ২১,২৬,২২৭ জন মহিলা এবং ১৪৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার। আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন নির্দলীয় ভিত্তিতে হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রার্থীদের সমর্থন জানিয়ে প্রচার চালিয়েছে।
ভোট হচ্ছে নয়টি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে— রাঁচি, ধানবাদ, দেওঘর, আদিত্যপুর, চাস, মেদিনীনগর, হাজারিবাগ, গিরিডিহ এবং আম— পাশাপাশি ২০টি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল ও ১৯টি নগর পঞ্চায়েতে।

