ঢাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): ঢাকার কলাবাগান এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয়েছেন এক বিএনপি নেতা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে এই ঘটনা ঘটে।
আহত শফিকুর রহমান (৫৫) কলাবাগান ওয়ার্ড-১৬ বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি কলাবাগান থানার অধীনস্থ বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের বিপরীতে একটি জুতার মার্কেটের সামনে গুলিবিদ্ধ হন। তিনি স্থানীয় বিভিন্ন দোকানে জুতো সরবরাহ করতেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় দোকানদার শাহপরান, যিনি শফিকুর রহমানকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নিয়ে যান, বলেন, “হঠাৎ একটি গুলি এসে তাঁর বাঁ হাতে লাগে। কে বা কারা গুলি চালিয়েছে, তা বলতে পারছি না।”
হাসপাতালে দায়িত্বরত পুলিশ ক্যাম্পের ইনস্পেক্টর মোহাম্মদ ফারুক জানান, কলাবাগান এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ এক ব্যবসায়ীকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁর চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি কলাবাগান থানাকে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সম্প্রতি ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করেছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সরকার গঠনের কয়েক দিনের মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটল।
গত সপ্তাহেও নির্বাচনের পরবর্তী হিংসায় দেশের পাঁচ জেলায় অন্তত ৯ জন আহত হন এবং একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। নাটোর জেলার লালপুর উপজেলায় ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে বিএনপির দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন আহত হন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।
এছাড়া শেরপুর জেলার সদর উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর সদস্যদের হামলায় বিএনপি কর্মী গিয়াসউদ্দিন রাসেল আহত হন বলে অভিযোগ। খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার মাশিয়ালি গ্রামে জামায়াত সমর্থক শোকর আকুঞ্জির বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও সামনে এসেছে।
এদিকে ঢাকাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সহায়তা সমিতি (এইচআরএসএস)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী হিংসায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং ২,৫০৩ জন আহত হয়েছেন। সারা দেশে ৭০০-রও বেশি হিংসার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অন্তত ৩৪ জন। ৫০০-রও বেশি বাড়ি, যানবাহন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, নির্বাচনী কার্যালয় ও ভোটকেন্দ্রে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলে যে অস্থিরতা ও উগ্রপন্থার উত্থান দেখা গিয়েছিল, তার পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়া তারেক রহমান-এর সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

