নয়াদিল্লি, ২৩ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় হামলার ছক কষছিল লস্কর-ই-তৈয়বা-ঘনিষ্ঠ একটি মডিউল—এমনই দাবি তদন্তকারী সংস্থার। তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৮ জনকে গ্রেফতারের পর এই চক্রটি ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় সামনে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীদের মতে, গোটা অপারেশনটির নেপথ্যে ছিল পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আন্তঃ-সেবা গোয়েন্দা সংস্থা (আইএসআই)।
তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, ফারিদাবাদ মডিউলের মতোই এই চক্রটির সঙ্গেও জম্মু ও কাশ্মীরের যোগ রয়েছে। গ্যান্ডারবলের বাসিন্দা শাব্বির আহমেদ লোনকে আইএসআই ২০১৯ সালে জেলমুক্তির পর থেকেই প্রভাবিত করতে শুরু করে। ২০০৭ সালে একে-৪৭ ও গ্রেনেড-সহ গ্রেফতার হওয়া লোন ২০১৯ সালে মুক্তি পান। এরপর তাঁকে বাংলাদেশে পাঠানো হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সেখান থেকেই তিনি মডিউলটি পরিচালনা করছিলেন বলে অভিযোগ।
ফারিদাবাদ মডিউল তদন্তে দেখা গিয়েছিল, এক ইমাম ওই চক্রের সদস্যদের পরিচালনা করছিলেন এবং তাঁকে নির্দেশ দিচ্ছিল আফগানিস্তান-ভিত্তিক জইশ-ই-মোহাম্মদ-এর এক হ্যান্ডলার।
গোয়েন্দা সূত্রে দাবি, এই মডিউল একাধিক ‘ড্রাই রান’ চালায় এবং সরাসরি হামলার বদলে প্রথম পর্যায়ে প্রচারযুদ্ধের ওপর জোর দেয়। কাশ্মীর ইস্যুতে পোস্টার সাঁটানো হয় দিল্লি ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায়। ১০ ফেব্রুয়ারি কলকাতার মেট্রো স্টেশন-সহ একাধিক জায়গায় এই ধরনের পোস্টার দেখা যায়।
তদন্তে জানা গিয়েছে, দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় বড়সড় হামলার পরিকল্পনা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গও ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। নির্বাচনের আগে মন্দির, বাসস্ট্যান্ড ও মেট্রো স্টেশনগুলিকে নিশানা করার ছক কষা হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে ব্যাহত করতে বড় আকারের হামলার পরিকল্পনা করেছিল আইএসআই—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন একাধিক আধিকারিক।
গোয়েন্দাদের মতে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত জুড়ে একাধিক মডিউল গড়ে তুলেছে আইএসআই। পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত লাগোয়া আসনগুলিতে জামায়াতে ইসলামী-র প্রভাব বৃদ্ধিকে কাজে লাগাতে চাইছে তারা। এছাড়া হরকাতুল জিহাদ আল-ইসলামী (হুজি) ও জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-কে এই অভিযানে যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিপুল সংখ্যায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের পাঠানো হচ্ছে এবং মাদ্রাসাগুলিতে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রায় এক মাস আগে তাঁদের ভারতে প্রবেশ করিয়ে জনবিন্যাসে পরিবর্তন ঘটানো এবং সাম্প্রদায়িক অশান্তি উসকে দেওয়াই উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
অন্তর্বর্তী সরকারের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্বে থাকা মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে বাংলাদেশকে আইএসআই তাদের ‘লঞ্চপ্যাড’ হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ভারতবিরোধী হামলার জন্য নতুন ঘাঁটি খুঁজছিল আইএসআই, আর সেই জায়গা হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি এক গোয়েন্দা আধিকারিকের।
সন্ত্রাস দমন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা অঞ্চলগুলিই বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। আইএসআই-এর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানগুলি ক্রমশ সীমান্তবর্তী এলাকাকেন্দ্রিক হবে এবং ভবিষ্যতের হামলাগুলিও সেখান থেকেই সমন্বিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

