বিজেপি সরকারের প্রচেষ্টায় অশান্ত উত্তর-পূর্বে ফিরেছে শান্তি: অসমে অমিত শাহ

গুয়াহাটি, ২১ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): একসময় অশান্ত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত উত্তর-পূর্ব ভারত এখন শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে—কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

শনিবার গুয়াহাটিতে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর ৮৭তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, উত্তর-পূর্বে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সিআরপিএফ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা ঐতিহাসিক ও অতুলনীয়। গত কয়েক দশকে এই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৭০০ জন সিআরপিএফ জওয়ান আত্মবলিদান দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শাহ বলেন, “একসময় উত্তর-পূর্ব মানেই ছিল অশান্তি, সহিংসতা ও অস্থিরতা। আজ সেই চিত্র বদলেছে। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী, বিশেষ করে সিআরপিএফের সাহস ও আত্মত্যাগের ফলেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, সিআরপিএফের ৮৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান অসমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা উত্তর-পূর্বের পরিবর্তন ও দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোয় এই অঞ্চলের বাড়তে থাকা গুরুত্বকে তুলে ধরে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, বিজেপি সরকার দেশের অন্যান্য সংঘাতপ্রবণ এলাকাতেও শান্তি ফিরিয়ে আনতে সফল হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দৃঢ় নীতি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ফলে সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। একইভাবে দেশের বিভিন্ন অংশে মাওবাদী কার্যকলাপও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রেও সরকারের জোরালো উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শাহ বলেন, দেশের সীমান্তকে অক্ষত, শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত রাখতে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চলছে। বিশেষ করে সীমান্ত ও স্পর্শকাতর অঞ্চলে উন্নয়ন ও নিরাপত্তা—দু’টিকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, উত্তর-পূর্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এখন উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং অঞ্চলটি সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলেছে। কেন্দ্র দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে শহিদ সিআরপিএফ জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষায় তাঁদের আত্মত্যাগের জন্য জাতি চিরকাল ঋণী থাকবে।
_____

Leave a Reply