তিরুবনন্তপুরম, ২০ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : কেরলে সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলিতে চিকিৎসকদের আউটপেশেন্ট (ওপি) বয়কট শুক্রবার পঞ্চম দিনে পড়ল। দীর্ঘদিনের একাধিক দাবির নিষ্পত্তির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে কেরালা সরকারি মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতি (কেজিএমসিটিএ)।
রাজ্য সরকার চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে “ডিউটি রোস্টার সিস্টেম” চালু করেছে। এই ব্যবস্থায় চিকিৎসকদের ওপি ডিউটি এবং অপারেশন থিয়েটার (ওটি)–এর সময়সূচি অনুযায়ী হাজিরা নথিভুক্ত করা হচ্ছে। ধর্মঘটে অংশ নেওয়া চিকিৎসকদের উপস্থিতিও এই তালিকায় চিহ্নিত করা হচ্ছে।
বকেয়া বেতন পরিশোধ, নতুন পদ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন পরিষেবা-সংক্রান্ত দাবিতে ডাকা এই ধর্মঘটের জেরে নিয়মিত হাসপাতাল পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার কেজিএমসিটিএ রাজ্য সচিবালয়ের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করে।
সরকার অনড় অবস্থান বজায় রাখলেও সংগঠন স্পষ্ট জানিয়েছে, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। জরুরি অস্ত্রোপচার চালু থাকলেও পূর্বনির্ধারিত বহু অপারেশন স্থগিত করতে হয়েছে।
প্রথমদিকে সিনিয়র চিকিৎসকদের সমর্থনে স্নাতকোত্তর (পিজি) চিকিৎসকরাও কর্মবিরতির ঘোষণা করেছিলেন। তবে স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠকের পর পিজি চিকিৎসকদের সংগঠন ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।
স্বাস্থ্য দফতরের তরফে চিকিৎসকদের মূল দাবিগুলি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আলোচনায় প্রধানত স্টাইপেন্ড বৃদ্ধি, দীর্ঘদিনের বকেয়া মেটানো এবং সংশোধিত হারে দ্রুত কার্যকর করার বিষয়গুলি গুরুত্ব পায়।
দফতরের সচিব জানিয়েছেন, স্টাইপেন্ড বকেয়া এবং সংশোধিত বেতন কাঠামো সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নির্দেশ খুব শিগগিরই জারি করা হবে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের কাজের চাপ কমাতে পদক্ষেপ নেওয়া এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
এই ধর্মঘট সরকারি হাসপাতালগুলিতে কর্মপরিবেশ, পারিশ্রমিক এবং সহায়ক অবকাঠামো নিয়ে চিকিৎসকদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষকে সামনে এনেছে। নিয়মিত স্বাস্থ্যপরিষেবা ব্যাহত হলেও জরুরি পরিষেবা অব্যাহত রয়েছে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, চিকিৎসকদের সঙ্গে সংলাপ প্রক্রিয়া চালু রয়েছে এবং দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পিজি চিকিৎসকদের আন্দোলন প্রত্যাহারের পর এখন নজর সিনিয়র চিকিৎসকদের দাবিদাওয়া এবং সেগুলি মেটাতে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

