‘মিয়া মুসলিম’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক: অসম বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট এআইইউডিএফের

গুয়াহাটি, ১৭ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): ‘মিয়া মুসলিম’ ইস্যুতে আলোচনার দাবিতে আনা স্থগিতাদেশ প্রস্তাব গ্রহণ না হওয়ায় মঙ্গলবার বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে অসম বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করলেন অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ)-এর বিধায়করা। পরে তাঁরা বিধানসভা চত্বরে বিক্ষোভও দেখান।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এআইইউডিএফ বিধায়ক আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে উসকানিমূলক ও বিভাজনমূলক মন্তব্য করছেন।

আমিনুল ইসলামের দাবি, “আজ আমরা এআইইউডিএফের পক্ষ থেকে স্থগিতাদেশ প্রস্তাব এনেছিলাম, কারণ মুখ্যমন্ত্রী ‘মিয়া মুসলিম’ নাম করে মানুষকে প্ররোচিত করছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, মিয়া মুসলিমদের রিকশা ভাড়া ৪ বা ৫ টাকা দেওয়া উচিত। এই ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত আপত্তিকর।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার পরিকল্পিতভাবে মেরুকরণের রাজনীতি করছে এবং অসমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করছে। তাঁর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী ক্রমাগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে অস্থির করে তুলছেন। কখনও ‘শুটআউট’-এর কথা বলা হচ্ছে, কখনও ‘নো মার্সি’ স্লোগান তোলা হচ্ছে—সবই একটি নির্দিষ্ট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে।”

এআইইউডিএফ জানায়, অসম বিধানসভার বিধি ৫৬ অনুসারে এই স্থগিতাদেশ প্রস্তাব আনা হয়েছিল, যা জনস্বার্থে জরুরি বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ দেয়, বিশেষত যখন কোনও সাংবিধানিক পদাধিকারীর মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, “বিধি ৫৬ অনুযায়ী আলোচনা হওয়া উচিত ছিল। একজন সাংবিধানিক পদে থেকে মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে ‘বাংলাদেশি মিয়া মুসলিম’ নাম করে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করতে পারেন? এত গুরুতর বিষয় নিয়ে আমাদের বিধানসভায় আলোচনা করতে দেওয়া হয়নি।”

আলোচনার সুযোগ না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই দল ওয়াকআউট করে বলে জানান তিনি। এআইইউডিএফ নেতৃত্বের দাবি, বিষয়টি বিধানসভায় আলোচনার জন্য গ্রহণ করা হোক এবং স্পিকার নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখুন।

এ বিষয়ে শাসক দল বিজেপির তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
______

Leave a Reply