তিরুবনন্তপুরম, ১৬ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বকে প্রকাশ্যে নিশানা করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন প্রবীণ নেতা মণি শঙ্কর আইয়ার। তিরুবনন্তপুরম থেকে সামাজিক মাধ্যমে করা তাঁর মন্তব্য ঘিরে ‘গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি’-র অন্দরেই শুরু হয়েছে অস্বস্তি।
আইয়ার লেখেন, “যে দল কে.সি. ভেনুগোপাল-কে রাহুল গান্ধীর সর্দার পটেল হিসেবে বেছে নেয়, সেই দল সম্পর্কে কী ভাববেন? আর যে দল মুখপাত্র হিসেবে পবন খেরা ছাড়া কাউকে খুঁজে পায় না, সেই দল নিয়েই বা কী বলা যায়?” তাঁর এই মন্তব্যকে সরাসরি ভেনুগোপাল ও খেরার বিরুদ্ধে কটাক্ষ বলেই মনে করা হচ্ছে।
সোমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আইয়ার আরও বলেন, কেরলের বাম সরকার আসলে “রাজীবীয় সরকার”, কারণ তারা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী-র বিকেন্দ্রীকৃত শাসনব্যবস্থার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছে। তাঁর পাশে এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেরলের স্থানীয় স্বশাসনমন্ত্রী এম. বি. রাজেশ এবং প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী থমাস আইজ্যাক।
আইয়ার দাবি করেন, দক্ষিণ ভারতের চার রাজ্য—কেরল, কর্নাটক, তামিলনাড়ু ও তেলেঙ্গানা—এই বিকেন্দ্রীকরণের দর্শন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করেছে। শাসন সূচকে কেরল শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তবে কংগ্রেস নেতা হিসেবেই তিনি চান ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ফের ক্ষমতায় আসুক। কিন্তু “গান্ধীবাদী” হিসেবে তাঁর মতে, মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন-ই সম্ভবত আবার ক্ষমতায় ফিরবেন। বিজয়নকে তিনি বুদ্ধিমান নেতা বলে উল্লেখ করেন এবং পুনর্নির্বাচিত হলে বিদেশে প্রতিনিধিদল পাঠানোর মতো বৈশ্বিক উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেন।
নিজের কংগ্রেস-নিষ্ঠা তুলে ধরে আইয়ার বলেন, “আমার ধুতির কিনারাতেও কংগ্রেসের তিরঙ্গা রয়েছে।” তবে একইসঙ্গে তিনি কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর-কে “সবচেয়ে বড় ক্যারিয়ারিস্ট” বলে কটাক্ষ করেন। ইউপিএ সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী হয়েও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র প্রশংসা করার জন্য থারুরের সমালোচনা করেন তিনি।
দলবদলের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে আইয়ার বলেন, কোনও রাজনৈতিক দলই স্বাধীনচেতা “সমস্যাসৃষ্টিকারী” নেতাকে নিতে চাইবে না। তবে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হলে তিনি কীভাবে নিজের মত প্রকাশ করবেন, তা তখন ভেবে দেখবেন।
আইয়ারের মন্তব্যের কড়া জবাব দেন বিরোধী দলনেতা ভি. ডি. সতীশন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আইয়ার কে? কংগ্রেসের কাছ থেকে সব কিছু পাওয়ার পরেও এমন মন্তব্য কেন?”

