গুয়াহাটি, ১৫ ফেব্রুয়ারি: অসমে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে চারটি নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। রবিবার গুয়াহাটিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, মাজুলি, ডিফু, উমরাংসো ও মানসে এই চারটি বিমানবন্দর গড়ে তোলা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্গম ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিমান যোগাযোগ উন্নত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এর ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সংযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ত্বরান্বিত হবে।
এছাড়াও তিনি জানান, ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে লোকপ্রিয় গোপীনাথ বর্দোলোই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর নতুন টার্মিনালে বিমান অবতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। নতুন টার্মিনাল চালু হলে যাত্রী ধারণক্ষমতা বাড়বে, ভ্রমণের অভিজ্ঞতা উন্নত হবে এবং গুয়াহাটি উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি প্রধান বিমান পরিবহণ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে দাবি করেন তিনি।
ডিব্রুগড় জেলার মোরানে নির্মিত ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি নিয়ে সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পকে চা-বাগানের মতো অসামরিক অবকাঠামোর সঙ্গে তুলনা করা যায় না। তাঁর কথায়, “এই সুবিধাটি সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। যুদ্ধ বা জরুরি পরিস্থিতিতে মোরানের ইএলএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।”
তিনি দাবি করেন, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মোরান ইএলএফ-কে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। বন্যার সময়েও এই সুবিধা সচল থাকবে বলে তিনি জানান, যা দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, দেশের শত্রুপক্ষ প্রায়ই এই ধরনের কৌশলগত সম্পদের গুরুত্ব খাটো করার চেষ্টা করে। কাজিরাঙা করিডর প্রকল্প নিয়েও অতীতে আপত্তি তোলা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে বলেও জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা গৌরব গোগই-কে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিরোধীরা অসমের প্রতিটি বড় উন্নয়নমূলক উদ্যোগের বিরোধিতা করছে। “যাঁরা কৌশলগত অবকাঠামোর বিরোধিতা করছেন, তাঁরা দেশের স্বার্থে কাজ করছেন না,” মন্তব্য করেন তিনি।
রাজ্য সরকারের এই ঘোষণাগুলি অসমে অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা প্রস্তুতি এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়ারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

