বাংলায় ডিএ সঙ্কট: মুখ্যসচিব ও অর্থসচিবকে আদালত অবমাননার নোটিস

কলকাতা, ১৪ ফেব্রুয়ারি(আইএএনএস) : রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ (মহার্ঘ ভাতা) বকেয়া সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব নন্দিনী গোস্বামী এবং রাজ্যের অর্থসচিব প্রভাত কুমার মিশ্রের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিস পাঠাল রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একটি সংগঠন।

সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে এবং সর্বোচ্চ ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের মধ্যে, অর্থাৎ ৩১ মার্চ ২০২৬-র মধ্যে মেটাতে হবে।

২৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ রায় দেয়, বিধিবদ্ধ বেতন কাঠামোর আওতায় পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীরা ডিএ পাওয়ার আইনি অধিকারী। সেই প্রেক্ষিতে ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

রাজ্য সরকারি কর্মচারী কনফেডারেশনের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও সরকার এখনও পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটানোর বিষয়ে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সেই কারণেই মুখ্যসচিব ও অর্থসচিবের কাছে আদালত অবমাননার নোটিস পাঠানো হয়েছে, বলেন তিনি।

এছাড়া ৫ ফেব্রুয়ারির নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট বকেয়া বাকি অর্থ পরিশোধের সময়সূচি নির্ধারণ করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথাও বলেছিল। এদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের শীর্ষ মহল কার্যত নীরবতা বজায় রেখেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিষয়টি বিচারাধীন হওয়ায় তিনি এ নিয়ে মন্তব্য করবেন না।

তবে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কটাক্ষ করে প্রশ্ন তোলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত যখন স্পষ্ট রায় দিয়েছে, তখন বিষয়টি কীভাবে বিচারাধীন থাকতে পারে। প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে রাজ্যের কোষাগার থেকে অবিলম্বে প্রায় ১০ হাজার কোটির কিছু বেশি টাকা ব্যয় হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে তা প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে।

Leave a Reply