দেশ জুড়ে ‘স্মার্ট মিটার পখওয়াড়া’, গ্রাহক বান্ধব বিদ্যুৎ পরিষেবায় স্বচ্ছতা ও ঝামেলামুক্ত বিলিংয়ের বার্তা

আগরতলা, ১৩ ফেব্রুয়ারি : বিদ্যুৎ পরিষেবাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও গ্রাহক বান্ধব করে তুলতে গোটা দেশের সঙ্গে রাজ্যজুড়েও ‘স্মার্ট মিটার পখওয়াড়া’ (বা স্মার্ট মিটার সচেতনতা পাক্ষিক) উদযাপন করছে ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেড। ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত চলবে এই জন সচেতনতা মূলক কর্মসূচি। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে স্মার্ট মিটারের সুবিধা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা তুলে ধরা হচ্ছে।

নিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল গ্রাহকদের কাছে স্মার্ট মিটারের ব্যবহার ও উপকারিতা সহজ ভাবে পৌঁছে দেওয়া। স্মার্ট মিটার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে ঝামেলাহীন করার পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য স্বচ্ছ বিলিং নিশ্চিত করে। ফলে বিল সংক্রান্ত বিভ্রান্তি কমবে এবং গ্রাহকরা নিজেদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের উপর আরও নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবেন।
এই পক্ষকাল উপলক্ষে জেলা, নগর পঞ্চায়েত এবং গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে সচেতনতামূলক শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি পাড়ায় পাড়ায় এবং বাড়িতে বাড়িতে এমনকি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পর্যায়েও চলছে প্রচার। ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মোট ৩১টি সচেতনতা শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। পশ্চিম ত্রিপুরায় সর্বাধিক ১০টি শিবির আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও গোমতী জেলায় ৮টি, দক্ষিণ ত্রিপুরায় ৪টি, উত্তর ত্রিপুরায় ৪টি, সিপাহিজলায় ২টি, খোয়াইয়ে ২টি এবং ধলাই জেলায় ১টি সচেতনতা শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এই শিবির গুলিতে গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি মত বিনিময় সভা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি তথ্য সমৃদ্ধ লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষ সহজ ভাষায় স্মার্ট মিটারের সুবিধা বুঝতে পারেন। শিবির গুলিতে লাইভ ডেমোনস্ট্রেশনের মাধ্যমে দেখানো হচ্ছে কীভাবে স্মার্ট মিটার কাজ করে এবং কীভাবে এটি বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য রিয়েল টাইমে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্ট মিটার ব্যবহারের ফলে গ্রাহকরা তাদের বিদ্যুৎ খরচ মুহূর্তের মধ্যে জানতে পারবেন। এতে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অপচয় কমানো সম্ভব হবে এবং গ্রাহকরা নিজেদের ব্যবহারের উপর সচেতন হয়ে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা করতে পারবেন। একই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় বিলিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বিল সংক্রান্ত ভুলত্রুটি বা অতিরিক্ত বিলের সমস্যাও অনেকাংশে দূর হবে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল এলাকায় সহায়তা কেন্দ্র বা হেল্পডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে স্মার্ট মিটার সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হচ্ছে এবং গ্রাহকদের মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে কীভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য দেখা যায়, তারও প্রদর্শনী করা হচ্ছে। ফলে গ্রাহকরা ঘরে বসেই নিজেদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব রাখতে পারবেন এবং বিল সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা পাবেন।

নিগমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্মার্ট মিটার বিদ্যুৎ পরিষেবাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার পাশাপাশি গ্রাহকদের সময় ও শ্রম বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে পরিষেবার মান উন্নত হবে এবং গ্রাহকদের স্বচ্ছ ও নির্ভুল পরিষেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এই কর্মসূচিকে সফল করতে সকল বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সচেতনতা শিবিরে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছে নিগম কর্তৃপক্ষ। তাঁদের মতে, স্মার্ট মিটার শুধু একটি আধুনিক প্রযুক্তি নয়, বরং ভবিষ্যতের উন্নত ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ পরিষেবার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

Leave a Reply