রায়পুর/বিজাপুর, ১২ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : ছত্তীসগঢ়ের বিজাপুর জেলায় বৃহস্পতিবার মাওবাদী বিরোধী অভিযানে নেমে একাধিক ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) নিষ্ক্রিয় ও ধ্বংস করল নিরাপত্তাবাহিনী। পাশাপাশি মাওবাদীদের নিহত নেতাদের স্মরণে তৈরি কয়েকটি স্মারকও ভেঙে ফেলা হয়েছে।
এক অভিযানে আওয়াপল্লী থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ)-র যৌথ দল আওয়াপল্লী-মুরদণ্ডা সড়কে ডিমাইনিং অভিযানে নামে। মুরদণ্ডা ক্যাম্প থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে রাস্তার প্রায় পাঁচ ফুট ভেতরে এবং মূল সড়কের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় দু’ফুট নিচে খোঁড়া গর্তে প্রায় ৩০ কেজি ওজনের একটি আইইডি উদ্ধার হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বড় যানবাহন লক্ষ্য করে সুইচ মেকানিজম-যুক্ত এই বিস্ফোরকটি পুঁতে রাখা হয়েছিল।
গভীরভাবে পোঁতা থাকায় নিরাপদে সরানো সম্ভব না হওয়ায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঘটনাস্থলেই নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে আইইডিটি ধ্বংস করা হয়। বিস্ফোরণে সড়কে একটি বড় গর্ত তৈরি হলেও পরে তা ভরাট করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। সময়মতো বিস্ফোরকটি উদ্ধার হওয়ায় বড়সড় নাশকতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
অন্য একটি অভিযানে গঙ্গালুর থানার অন্তর্গত ডোডিটুমনার ফরওয়ার্ড অপারেটিং বেস (এফওবি) এলাকায় সিআরপিএফের ডিমাইনিং দল প্রায় ৫ কেজি ওজনের একটি প্রেসার আইইডি সনাক্ত করে এবং তা সেখানেই ধ্বংস করে।
এদিকে কুটরু থানার অধীন কোবরা ব্যাটালিয়নের পরিচালিত মাওবাদী বিরোধী অভিযানে মাড় এলাকার ইন্দ্রাবতী নদীর তীরে মাওবাদীদের তৈরি একটি স্মারক চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলা হয়। ওই স্মারকটি নিষিদ্ধ সিপিআই (মাওবাদী)-র প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক বাসবরাজু ওরফে নাম্বালা কেশব রাও-এর স্মরণে নির্মিত বলে জানা গেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে আবুজমাড় এলাকায় এক সংঘর্ষে তিনি সহ ২৬ জন নিহত হন।
নিরাপত্তা সংস্থার মতে, বাসবরাজু প্রশিক্ষণে ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন এবং গেরিলা কৌশল ও আইইডি প্রস্তুতিতে দক্ষ হিসেবে দীর্ঘদিন মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও গঙ্গালুর থানার অন্তর্গত টোডকা-কোরচোলি ও পেড্ডাকোরমা এলাকার জঙ্গলে তল্লাশি ও এলাকা দখল অভিযানের সময় সিআরপিএফের একটি দল আরও কয়েকটি মাওবাদী স্মারক ভেঙে দেয়।
আধিকারিকদের মতে, অঞ্চলে মাওবাদী সংগঠনের কার্যকলাপ ও প্রতীকী উপস্থিতি ভেঙে দেওয়ার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ। এ ধরনের কাঠামো সরিয়ে দিয়ে মাওবাদী প্রচার রুখতে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উপর প্রভাব কমাতে চায় নিরাপত্তাবাহিনী।
বামপন্থী উগ্রবাদ নির্মূলের লক্ষ্যে সরকারের ঘোষিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে বস্তার বিভাগে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতেই এই অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

