অনাস্থা প্রস্তাবের আবহে ওম বিড়লার ঘোষণা, নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অধ্যক্ষের চেয়ারে বসবেন না

নয়াদিল্লি, ১০ ফেব্রুয়ারি : নিজের বিরুদ্ধে আনা অপসারণের প্রস্তাবের নোটিস ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা জানিয়েছেন, নৈতিকতার প্রশ্নে তিনি সংসদের কার্যক্রমে অংশ নেবেন না এবং বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অধ্যক্ষের চেয়ারে বসবেন না।

সূত্রের খবর, বিরোধীদের আনা অপসারণের প্রস্তাব গৃহীত হয়ে তার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি লোকসভার অধ্যক্ষ হিসেবে আসন গ্রহণ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিনই কংগ্রেসের তরফে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিস জমা পড়েছে।

অধ্যক্ষ ওম বিড়লা লোকসভার সচিব-জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছেন, অপসারণের প্রস্তাবের নোটিসটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে। কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ জানান, আজ দুপুর ১টা ১৪ মিনিটে আমরা বিধি ও কার্যপ্রণালীর ৯৪(গ) ধারার অধীনে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অপসারণের প্রস্তাবের নোটিস জমা দিয়েছি।”

লোকসভা সচিব-জেনারেল উৎপল কুমার সিংয়ের কাছে জমা দেওয়া এই অপসারণের প্রস্তাবে মোট ১১৮ জন সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে। কংগ্রেস নেতারা কে সুরেশ, গৌরব গগৈ এবং মোহাম্মদ জাভেদ যৌথভাবে এই নোটিস জমা দেন।

নোটিসের ভাষ্য অনুযায়ী, সংবিধানের ৯৪(গ) অনুচ্ছেদের অধীনে এই প্রস্তাব আনা হয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়েছে, লোকসভা পরিচালনার ক্ষেত্রে অধ্যক্ষ “স্পষ্টভাবে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ” করেছেন এবং বিরোধী দলগুলির নেতাদের বারবার কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি, যা একটি মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকারের লঙ্ঘন।

চিঠিতে সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় রাহুল গান্ধীকে বক্তব্য সম্পূর্ণ করতে না দেওয়া এবং আটজন বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড করার ঘটনা। এই পরিস্থিতিতে অধ্যক্ষের এমন সিদ্ধান্ত সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply