ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিতে ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের ভারতীয় বাজার আমেরিকান পণ্যের জন্য আরও উন্মুক্ত হবে, বিবৃতি হোয়াইট হাউসের

ওয়াশিংটন, ১০ ফেব্রুয়ারি : ভারত–যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্য চুক্তিকে “ঐতিহাসিক” পদক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের দাবি, এই চুক্তির ফলে ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের ভারতীয় বাজার আমেরিকান পণ্যের জন্য আরও উন্মুক্ত হবে। চুক্তির মূল শর্তগুলি স্পষ্ট করে একটি ফ্যাক্টশিটও প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউস। ওই বিবৃতি অনুযায়ী, পারস্পরিক শুল্কের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামাতে সম্মত হয়েছে।

এই বিবৃতির মাধ্যমে চুক্তি সংক্রান্ত একাধিক বিষয় পরিষ্কার করা হয়েছে, বিশেষত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সেই দাবি নিয়ে, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে “শুল্ক ও অ-শুল্ক বাধা শূন্যে নামাতে” রাজি হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নয়াদিল্লি রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় ভারতীয় আমদানির ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সব শিল্পপণ্য এবং বিস্তৃত খাদ্য ও কৃষিপণ্যের ওপর শুল্ক “বাতিল বা কমাতে” ভারত সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ড্রায়েড ডিস্টিলার্স গ্রেইনস (ডিডিজি), লাল জোয়ার, বিভিন্ন ধরনের বাদাম, তাজা ও প্রক্রিয়াজাত ফল, নির্দিষ্ট ডাল, সয়াবিন তেল, ওয়াইন ও মদ্যপ পানীয়সহ আরও নানা পণ্য।

হোয়াইট হাউস আরও জানিয়েছে, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, কৃষি, কয়লা-সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মার্কিন পণ্য কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলে এমন অ-শুল্ক বাধাগুলি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের ক্ষেত্রেও ভারত সম্মতি জানিয়েছে। পাশাপাশি, ডিজিটাল পরিষেবা কর প্রত্যাহার করবে ভারত এবং বৈষম্যমূলক বা অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এমন ডিজিটাল বাণিজ্য সংক্রান্ত বিধি মোকাবিলায় শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক ডিজিটাল বাণিজ্য নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করতে রাজি হয়েছে। এর মধ্যে ইলেকট্রনিক ট্রান্সমিশনের ওপর শুল্ক আরোপ নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও রয়েছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দুই দেশই ‘রুলস অব অরিজিন’ নিয়ে আলোচনা করতে সম্মত হয়েছে, যাতে চুক্তির সুফল মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। এছাড়াও, তৃতীয় পক্ষের অ-বাজারমুখী নীতির মোকাবিলায় সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করা, উদ্ভাবন বৃদ্ধি, বিনিয়োগ পর্যালোচনা ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দুই দেশ। প্রযুক্তি পণ্যের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো এবং যৌথ প্রযুক্তি সহযোগিতা সম্প্রসারণের কথাও বলা হয়েছে বিবৃতিতে।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে “শুল্ক ও অ-শুল্ক বাধা শূন্যে নামাতে” সম্মত হয়েছে। বাস্তবে এই বক্তব্যের অর্থ নির্বাচিত কিছু মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক ধাপে ধাপে কমানো বা হ্রাস করার নীতিগত সম্মতি, সব পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে শুল্ক প্রত্যাহার নয়। তবে ট্রাম্পের কড়া ভাষার কারণে ভারতীয় ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়।

গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ফোনালাপের পর এই বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। ওই আলোচনায় দুই নেতা পারস্পরিক বাণিজ্য নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির কাঠামোতে পৌঁছান এবং বৃহত্তর ভারত–যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে এবং অন্তর্বর্তী চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজ এগোবে, যার লক্ষ্য হবে মার্কিন শ্রমিক ও ব্যবসার স্বার্থে একটি পারস্পরিক লাভজনক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি-এর টার্মস অব রেফারেন্স অনুযায়ী বাকি শুল্ক ও অ-শুল্ক বাধা, কারিগরি বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা, শুল্ক ও বাণিজ্য সহায়ক ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া, পরিষেবা ও বিনিয়োগ, মেধাস্বত্ব, শ্রম, পরিবেশ, সরকারি ক্রয়নীতি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বাণিজ্য-বিকৃতিমূলক বা অন্যায্য চর্চা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা চলবে।

Leave a Reply