প্রকাশকের বক্তব্য ভাগ করে স্মৃতিকথা বিতর্কে প্রাক্তন সেনাপ্রধান নারাভানের প্রথম প্রতিক্রিয়া

নয়াদিল্লি, ১০ ফেব্রুয়ারি : অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা ঘিরে চলা বিতর্কের মধ্যে এই প্রথম মুখ খুললেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নারাভানে। তিনি তাঁর স্মৃতিকথার প্রকাশক পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া (পিআরএইচআই)-র অবস্থানকে সমর্থন করে তাদের বিবৃতি নিজেদের এক্স হ্যান্ডলে ভাগ করেছেন। প্রকাশকের ওই বিবৃতি ভাগ করে নারাভানে সংক্ষেপে লেখেন, এই মুহূর্তে বইটির অবস্থান এটিই। এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, প্রকাশকের ব্যাখ্যাই এই বিষয়ে তাঁর অবস্থান।

এর আগে মঙ্গলবার পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া জানায়, কোনও বইয়ের ঘোষণা বা প্রি-অর্ডারের জন্য উপলব্ধ হওয়া মানেই সেই বই প্রকাশিত হয়েছে এমন নয়। প্রকাশক স্পষ্ট করে জানায়, প্রাক্তন সেনাপ্রধানের স্মৃতিকথা এখনও প্রকাশনার পর্যায়ে যায়নি এবং বইটির কোনও মুদ্রিত বা ডিজিটাল কপি প্রকাশ, বিতরণ বা বিক্রি করা হয়নি। ফলে বইটির যে কোনও ধরনের প্রচলন কপিরাইট লঙ্ঘনের আওতায় পড়বে।

উল্লেখ্য, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অনুমোদন এখনও না পাওয়া এই স্মৃতিকথার পিডিএফ কপি ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। সংসদে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী লোকসভায় সরকারকে আক্রমণ করতে স্মৃতিকথার কিছু অংশ উদ্ধৃত করার পরই বিষয়টি রাজনৈতিক মাত্রা পায়।

নিজেদের বিবৃতিতে পেঙ্গুইন জানায়, ফোর স্টারস অফ ডেসটিনি, জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানের স্মৃতিকথার একমাত্র প্রকাশনার অধিকার তাদের কাছেই রয়েছে। সাম্প্রতিক জনআলোচনা ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলির প্রেক্ষিতে তারা এই অবস্থান স্পষ্ট করছে বলেও জানানো হয়।

প্রকাশক আরও জানায়, বইটি এখনও প্রকাশনার পর্যায়ে যায়নি এবং কোনও ফরম্যাটেই মুদ্রিত বা ডিজিটাল সাধারণ মানুষের জন্য উপলব্ধ করা হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে যেসব কপি ছড়িয়ে পড়েছে, তা পিডিএফ বা অন্য যে কোনও রূপেই হোক না কেন, সবই অবৈধ এবং কপিরাইট লঙ্ঘনের শামিল। এই ধরনের অননুমোদিত প্রচারের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে প্রকাশক সংস্থা।

বিতর্কের প্রেক্ষিতে পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া বই প্রকাশের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে একটি সংক্ষিপ্ত নির্দেশিকাও প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, বই ঘোষিত হওয়া, প্রি-অর্ডারের জন্য উপলব্ধ থাকা এবং বই প্রকাশিত হওয়া এই তিনটি বিষয় এক নয়। প্রকাশকের ব্যাখ্যায়, কোনও বইয়ের ঘোষণা মানে কেবল সেটি পরিকল্পনাধীন, বিক্রির জন্য তখনও তা বাজারে আসেনি।

প্রি-অর্ডার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, এটি প্রকাশনা জগতের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে পাঠক ও বিক্রেতারা আগাম অর্ডার দিতে পারেন। নির্ধারিত প্রকাশনার তারিখ মানে বইটি প্রকাশের পরিকল্পনা করা হয়েছে, কিন্তু তাতেও প্রকাশ সম্পন্ন হয়েছে এমনটা বোঝায় না। প্রকাশক জানিয়েছে, কোনও বই তখনই প্রকাশিত বলে গণ্য হয়, যখন তা বিক্রয় চ্যানেলে ক্রয়ের জন্য উপলব্ধ হয়।

এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে স্মৃতিকথা বিতর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে প্রকাশক সংস্থা, আর সেই অবস্থানকেই প্রকাশ্যে সমর্থন জানালেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম এম নারাভানে।

Leave a Reply